কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটিরপাড় এলাকার গ্রিন লাইফ ক্লিনিকের পূর্ব পাশে, কমল ব্যানার্জি উকিলের বাড়ির পাশ দিয়ে মরহুম কোবাদ আলীর বাড়ির সামনে গিয়ে শেষ হওয়া সড়কটি বর্তমানে চরম বেহাল অবস্থায় রয়েছে। পরে সেখানে পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হলেও, রাস্তার পাশের ড্রেনটি কয়েক বছর ধরে ভেঙে পড়ে আছে। ফলে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তায় এক হাঁটু পানি জমে যায়। পানি দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকায় সৃষ্টি হচ্ছে দুর্গন্ধ, কাদা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। প্রতিদিন এই দুর্ভোগের মধ্য দিয়েই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন এলাকার শত শত মানুষ। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, নারী, শিশু ও বৃদ্ধ সবাই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন,আমরা কি এই পৌরসভার নাগরিক নই? আমরা কি নিয়মিত পৌরকর দিই না? তাহলে বছরের পর বছর কেন আমাদের এই অবহেলা?”
হাটিরপাড়ের বাসিন্দা বাবুল হোসেন বলেন, প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে আমরা পৌরসভার প্রকৌশলীর পেছনে ঘুরছি। এলাকাবাসী বহুবার আবেদন করেছে, মানববন্ধন করেছে। শুধু আশ্বাসই পেয়েছি—‘আজ হবে, কাল হবে, এস্টিমেট পাঠাইছি যাচ্ছে।’ কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। আমরা আর কতদিন এই দুর্ভোগ সহ্য করবো?”
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার হারুন সাহেব বিষয়টি সমাধানের জন্য বহুবার চেষ্টা করলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি।
এলাকার বাসিন্দা ও সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, এ্যাড. আশরাফ আলী, আজিজুল, সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা মঞ্জুসহ অনেকেই বলেন, “আমাদের বাড়ির গেটের সামনে ড্রেন ভেঙে গেছে, রাস্তা ধসে পড়েছে। কাদা, ময়লা ও দুর্গন্ধে বাসায় থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। এটি শুধু চলাচলের সমস্যা নয়, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিরও একটি বড় কারণ।”
এছাড়াও উত্তম, সাংবাদিক জাফর আহমেদ, সাহাব আলী, আজাদ লেদ ফারুক, নজরুল ইসলাম, ছোট হারুন, আলী হোসেন, আবুল হোসেনসহ হাটিরপাড়ের অসংখ্য বাসিন্দা একযোগে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ প্রশাসক এবং পৌর প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, পৌরসভার দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বশীলদের উদাসীনতা এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় আজ কুড়িগ্রাম পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ একটি আবাসিক এলাকার এমন বেহাল চিত্র সৃষ্টি হয়েছে। একটি ড্রেন ও স্বল্প দৈর্ঘ্যের একটি রাস্তা বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়া নাগরিক সেবার মান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ড্রেন পুনর্নির্মাণ, রাস্তা সংস্কার এবং স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা না হলে আগামী দিনে জনদুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে।
হাটিরপাড়ের মানুষ আর কোনো প্রতিশ্রুতি নয়, এবার দৃশ্যমান কাজ দেখতে চান। তারা বিশ্বাস করেন, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ প্রশাসক এবং পৌর প্রশাসন বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এলাকাবাসীর জোরালো আহ্বান: “উন্নয়নের সুফল যেন শুধু শহরের কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ না থাকে। হাটিরপাড়ের মানুষও এই পৌরসভার নাগরিক। তাই আমাদেরও নিরাপদ, চলাচল উপযোগী রাস্তা ও স্বাস্থ্যসম্মত ড্রেনেজ ব্যবস্থা পাওয়ার সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার রয়েছে। বছরের পর বছর অবহেলার অবসান ঘটিয়ে অবিলম্বে রাস্তা ও ড্রেন সংস্কারের কাজ শুরু করা হোক। জনগণের কষ্ট লাঘব করাই হোক প্রশাসনের অঙ্গীকার।
পড়ুন : ১৬ ডিসেম্বর চালু হচ্ছে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল
সা/


