বিজ্ঞাপন

মির্জাপুরে অবৈধ মাটি কাটায় ঝুঁকিতে বিধবার বসতঘর

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের টাকিয়াকদমা সিতারচালা গ্রামে দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত ও গভীর মাটি কাটার কারণে এক অসহায় বিধবা নারীর বসতঘর চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। বাড়ির একেবারে সীমানা ঘেঁষে ৩০ থেকে ৪০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নেওয়ায় ঘরের নিচের মাটি ধসে যাচ্ছে। টানা বর্ষণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর আতঙ্কে দিন কাটছে সাহারা খাতুন নামে ওই বিধবা নারীর।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে পার্শ্ববর্তী কৃষিজমির মাটি বিক্রির সময় ভেকু দিয়ে নিরাপদ দূরত্ব না মেনে বাড়ির পাশ থেকেই মাটি কেটে নেওয়া হয়। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে মাটি ধসে পড়তে শুরু করে। বর্তমানে পলিথিন ও বাঁশ দিয়ে কোনোভাবে ঘরটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান নয়।
সাহারা খাতুন বলেন, “রাতে ঘুমাতে পারি না। সবসময় ভয় হয়, এই বুঝি ঘরটা ভেঙে পড়ে গেল। নতুন ঘর করার কোনো সামর্থ্য আমার নেই।”

পরিবারের দাবি, ঘর রক্ষার জন্য মাটি ব্যবসায়ীদের বারবার অনুরোধ করা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। দীর্ঘদিন ধরে ঘর ধসে পড়ার আশঙ্কায় মানসিক দুশ্চিন্তায় ছিলেন সাহারা খাতুনের স্বামী। পরিবারের ভাষ্য, সেই দুশ্চিন্তাই তার মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সাহারা খাতুনের মেয়ে মজিরন বেগম বলেন, “মায়ের সঙ্গে এই ঘরেই থাকি। এই ঘরটুকু যদি না থাকে, তাহলে আমাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না।”
স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ খান বলেন, “এভাবে সীমানা ঘেঁষে মাটি কাটার ঘটনা খুবই অমানবিক। এখন পুরো পরিবারটি চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।”

লতিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন রনি বলেন, “আমি চেয়ারম্যান হওয়ার আগেই ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এটি অত্যন্ত অমানবিক কাজ হয়েছে।”

মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক আজিজ বলেন, “মানবিক বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অসহায় পরিবারটির খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাহারা খাতুনের বাড়িই নয়, অনিয়ন্ত্রিত মাটি কাটার কারণে ওই এলাকার কৃষিজমি ও আশপাশের আরও কয়েকটি বসতবাড়িও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তারা অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির নিরাপদ পুনর্বাসনে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পড়ুন : সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন