বিজ্ঞাপন

লোহিত সাগরে সৌদির দুই জাহাজে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

লোহিত সাগরে চলাচলরত সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। তাদের দাবি, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ঘোষিত সামুদ্রিক অবরোধ অমান্য করায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি সৌদি আরব।

বিজ্ঞাপন

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলরত সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি। বুধবার (২২ জুলাই) তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর ঘোষিত সামুদ্রিক অবরোধ অমান্য করায় এনসেলা ও লাইলিয়া নামের দুটি সৌদি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজ দুটিতে আগুন ধরে যায়।

হুথিদের দাবি, তাদের এ অভিযানের ফলে আরও প্রায় ১০টি জাহাজ নির্ধারিত পথ ছেড়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। সৌদি আরব অবশ্য এখনও এ দাবির বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে এই অঞ্চলের নৌ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী যুক্তরাজ্য মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, তারা একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার খবর পেয়েছে।

ইউকেএমটিও এক বিবৃতিতে জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ অজ্ঞাত এক বস্তুর আঘাতে জাহাজে আগুন লেগেছে বলে একটি ট্যাংকারের অধিনায়ক জানিয়েছেন। ক্রুরা তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইয়েমেনের সরকার এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসা হুথিরা গত ২০ জুলাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে। হুথিরা বলেছে, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ভিত্তিতে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, অবরোধের জবাবে অবরোধ আরোপ করা তাদের জনগণের ন্যায্য অধিকার।

২০১৪ সালে সানা দখল করা ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীর অভিযোগ, প্রায় ১২ বছর ধরে সৌদি আরব ইয়েমেনের ওপর ‘অন্যায় ও দমনমূলক অবরোধ’ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে বন্দর ও বিমানবন্দর অবরুদ্ধ করে ইয়েমেনের সম্পদ লুট করা হয়েছে।

অন্যদিকে রিয়াদ বরাবরই ইয়েমেনের জনগণের ওপর অবরোধ আরোপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এছাড়া হুথিদের সমালোচকদের দাবি, জর্ডানের রাজধানী আম্মান ও সানার মধ্যে বিমান চলাচল পুনরায় চালুর একটি প্রস্তাবও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।

মূলত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরব লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি ব্যবহার করে বিকল্প পথে তেল পরিবহনের চেষ্টা করছে। তবে এখন সেই পথও হুথিদের হুমকির মুখে পড়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর বাব আল-মান্দেব এলাকায় জাহাজে হামলা শুরু করে হুথিরা, যার ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যাহত হয়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর সেই হামলা বন্ধ হয়।

সানাভিত্তিক সাংবাদিক হুসেইন আল-বুখাইতি আল জাজিরাকে বলেন, ‘সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিরা কার্যকর অবরোধ গড়তে পারবে কি না তা নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন, তাদের মনে রাখা উচিত— হুথিরা কীভাবে সফলভাবে লোহিত সাগর হয়ে ইসরায়েলি বন্দরে প্রবেশের পথ বন্ধ করেছিল। এর ফলে দক্ষিণ ইসরায়েলের ইলাত বন্দর কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের মে মাসে ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রকে হুথিদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে যেতে হয়েছিল।’

লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী বাব আল-মান্দেব প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর একটি, বিশেষ করে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে। ইয়েমেনের উত্তর-পূর্ব উপকূল এবং হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মধ্যবর্তী এই প্রণালির সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ মাত্র ২৯ কিলোমিটার (১৮ মাইল)। ফলে সুয়েজ খাল ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর যাতায়াত দুটি পৃথক নৌপথে সীমিত থাকে।

২০২৪ সালে এ প্রণালি দিয়ে প্রায় ৪১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়েছে। যা বৈশ্বিক মোট জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ৫ শতাংশ।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে। এর সঙ্গে যদি বাব আল-মান্দেব প্রণালিও অচল হয়ে যায়, তাহলে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২৫ শতাংশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

পড়ুন : দেশের ১০ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন