দিল্লির জন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশি লাঠিচার্জের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আহ্বান জানান এবং সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘সব মনে রাখা হবে।
ভিডিওবার্তায় নাসিরুদ্দিন শাহ বলেন, দেশের নেতৃত্ব যদি এমন কারও হাতে থাকে, যিনি অজ্ঞতা ও নির্মমতাকে প্রশ্রয় দেন, তাহলে তিনি পুরো দেশকেও সেভাবেই দেখতে চাইবেন। তিনি জানান, ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা (এনএসডি) এবং ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (এফটিআইআই)–এ পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও তিনি অনেক কিছু শিখেছেন। তাই তাদের ওপর হামলার ঘটনা তাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে।
আবেগঘন কণ্ঠে অভিনেতা বলেন, আমার হৃদয় ভারাক্রান্ত। আমাদের তরুণদের যেভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে, তা দেখে রক্ত গরম হয়ে যাচ্ছে। যারা মুখ ঢেকে হাতে লাঠি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করছে, তাদেরও একদিন নিজেদের কাজের জবাব দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আশা হারিয়ো না। অনেক মানুষ তোমাদের পাশে আছে। লড়াই চালিয়ে যাও। দেশের তরুণদের ওপর আমার সবসময়ই আস্থা ছিল, এখন সেই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে। সরকারের উদ্দেশে নাসিরুদ্দিন শাহর বার্তা ছিল সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘সব মনে রাখা হবে।’
শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে মুখ খুলেছেন বলিউড অভিনেতা অনুপম খের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে আন্দোলনের সঙ্গে রাজনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
হিন্দুস্তান টাইমস ভিডিওতে অনুপম খের বলেন, আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের দৃশ্য দেখে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু নিজেদের দাবি তুলে ধরতে গিয়ে কোনো শিক্ষার্থীর এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া উচিত নয়। আমিও একসময় ছাত্র ছিলাম। আমিও কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন করেছি। তাই শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ, ক্ষোভ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আশা আমি বুঝতে পারি।
তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনই সবচেয়ে আন্তরিক আন্দোলন, কারণ তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ, অধিকার এবং দেশের উন্নয়নের কথা ভেবেই রাজপথে নামে। এ কারণে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তাও দেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, আন্দোলনে বাইরের বিভিন্ন গোষ্ঠী, বিশেষ করে রাজনৈতিক দল যুক্ত হলে মূল উদ্দেশ্য অনেক সময় আড়ালে চলে যায়। শুরুতে মনে হতে পারে বেশি মানুষ যুক্ত হলে আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে, কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা উল্টো ফল বয়ে আনে।
অনুপম খেরের ভাষায়, অনেক সময় এসব গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে। একপর্যায়ে আন্দোলনের প্রকৃত দাবি ও উদ্দেশ্য হারিয়ে যায় এবং আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণও শিক্ষার্থীদের হাতছাড়া হয়ে যায়। তিনি বলেন, এই আন্দোলন শিক্ষার্থীদেরই থাকা উচিত। গণতন্ত্রে প্রশ্ন করা, প্রতিবাদ করা এবং দাবি জানানো প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। তবে খেয়াল রাখতে হবে, যেন অন্য কেউ তাদের কণ্ঠস্বরের অপব্যবহার করতে না পারে।
জন্তর মন্তরের এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয় পরীক্ষায় অনিয়ম ও নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন। এর আগে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনাও বিতর্কের জন্ম দেয়।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলিউডের আরও কয়েকজন তারকা। তাদের মধ্যে রয়েছেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ, সোনু সুদ, দিয়া মির্জা, শাবানা আজমি, প্রকাশ রাজ, স্বরা ভাস্কর, রিতেশ দেশমুখ, ভির দাস, রিচা চাড্ডা, সোনাক্ষী সিনহা ও জেনেলিয়া দেশমুখ। তাঁদের অনেকেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
পড়ুন : দেশের ১০ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা
সা/


