গাজীপুরের কালীগঞ্জে বিচারাধীন একটি ভূমি বিরোধ মামলার তদন্ত ও ঘটনাস্থল পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে স্বজনপ্রীতি, একপক্ষীয় আচরণ ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে বাদীকে বক্তব্য দিতে বাধা, নথিপত্র গ্রহণে অনীহা এবং মানসিক হেনস্থার অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মামলার বাদী কায়ুম খান। অভিযোগপত্রে তিনি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগও করেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে বিচারাধীন ১৪৫ ধারার মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গত ১৬ জুলাই সকাল ১০টার দিকে কালীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনা অনুযায়ী অসুস্থ শরীর নিয়েও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বাদী কায়ুম খান। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
অভিযোগে বলা হয়, পরিদর্শনের সময় মামলার মূল বিবাদী রোকনুজ্জামান ভূঁইয়া রনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তবে তার অনুসারী ও সমর্থকেরা প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে প্রবীণ ও অসুস্থ বাদীর ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন এবং বারবার তার বক্তব্য প্রদানে বাধা দেন।
কায়ুম খান দাবি করেন, তিনি হৃদরোগ ও কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত একজন গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি। ঘটনাস্থলে জমির মালিকানা-সংক্রান্ত নথি, নামজারির কপি এবং দখলের সপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্তরা তা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেন। নথিপত্রের প্রাপ্তিস্বীকার বা রিসিভ কপি চাইলে তাকে বলা হয়, ‘রিসিভ করা হবে না, এমনিই দেন।’ বিষয়টি ঘটনাস্থলে থাকা সহকারী কর্মকর্তা এরশাদকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও বাদীপক্ষ ভূমির হালনাগাদ নামজারির কপি এবং ২০২৭ সাল পর্যন্ত খাজনা পরিশোধের বৈধ রশিদ দাখিল করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাদীপক্ষের অভিযোগ, পরিদর্শনের সময় বিবাদীপক্ষের পক্ষে রুবায়েদ খানের অনুকূলে কোনো বৈধ ভাড়া চুক্তিপত্র বা মালিকানার লিখিত সনদ উপস্থাপন করা হয়নি।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশে বিতর্কিত সম্পত্তিতে ব্যবহৃত অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে। ওই আদেশের অনুলিপিও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ জুলাই সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে বিবাদীপক্ষের আইনজীবী এনামুল ইসলাম এবং বাদীর ছোট ভাই হারুনুর রশিদ খান একটি সন্দেহজনক কালো ব্যাগ নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। একজন বিচারপ্রার্থী হিসেবে প্রশাসনিক চত্বরে এমন ঘটনার বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষপাতমূলক ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগ তুলে কায়ুম খান জানান, সুবিচারের আশায় তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলার ভূমি অফিসের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সংবাদে প্রকাশ করা হবে।
পড়ুন: দেশের অর্থনীতি ট্রিলিয়ন ডলারে নিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
আর/


