দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দখল ও অবৈধ বাঁধের কারণে পানি চলাচল বন্ধ ছিল কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার ঐতিহাসিক রঙিখালে। এতে প্রতি বর্ষায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়তেন আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ। টানা তিন দিনের উচ্ছেদ অভিযানে খালের একাধিক বাঁধ অপসারণ শুরু হওয়ায় আবারও স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরতে শুরু করেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে মগনামা ইউনিয়নের অন্তত ১০ হাজার বাসিন্দার মধ্যে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল থেকে মগনামা ইউনিয়নের কাজির মার্কেট ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় স্থানীয় প্রশাসন। চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে একটি বড় অবৈধ বাঁধ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে খালটির ওপর আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের ও খামার গড়ে তোলা হয়েছিল। এতে শুদ্ধখালী, এবাদুল্লাহপাড়া, মৌলভীদিয়া, কালারপাড়া, বেদারবিলপাড়া ও কোদাইল্লাদিয়া এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়ে। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমনকি কবরস্থানও পানিতে তলিয়ে যেত।
স্থানীয় বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, “সামান্য বৃষ্টিতেই আমাদের ঘরবাড়ি ডুবে যেত। অনেক সময় মৃত ব্যক্তিকে দাফনের জন্য শুকনো জায়গাও পাওয়া যেত না। এখন খালের পানি চলাচল শুরু হওয়ায় অনেক স্বস্তি লাগছে।”
কৃষক শফিউল আলম বলেন, “খালটি পুরোপুরি সচল হলে মানুষ আবার মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে। তবে খালটি পুনঃখনন করে স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ দখল করতে না পারে।”
প্রশাসন সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবারের অভিযানে নেতৃত্ব দেন মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইউনুস চৌধুরী। অপসারণ করা বাঁধটি স্থানীয় মৃত আক্তার কামালের ছেলে মানিক চৌধুরী নির্মাণ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইউনুস চৌধুরী বলেন, জনস্বার্থে রঙিখাল পুরোপুরি দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। ইতিমধ্যে ৫৮টি অবৈধ বাঁধ ও জাল অপসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, ব্রিটিশ আমলে খনন করা রঙিখালটি একসময় এ অঞ্চলের প্রধান পানি নিষ্কাশন পথ ছিল। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনায় খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। চলমান উচ্ছেদ অভিযান শেষে খালটি পুনঃখনন করা হলে এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করছেন বাসিন্দারা।
অভিযানকালে প্যানেল চেয়ারম্যান বদিউল আলম, পেকুয়া থানা-পুলিশ, গ্রাম পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন:চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু
ইমি/


