বিজ্ঞাপন

কোটি কোটি টাকার বরাদ্দে পৌরবাসীর সেবার মান শূন্য, প্রকল্পের নামে অর্থ অন্যের পকটে

রাজশাহীর চারঘাট পৌরসভা ও পৌরবাসীদের জীবন মান উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে, কিন্ত বাস্তবায়ন নেই। প্রকল্পের বাস্তবায়নে গড়িমশি থাকলেও তদারকিতে ছিলনা সংশ্লিষ্ট দপ্তর। বিগত সরকার শাসন থেকে এখন পর্যন্ত গিলে খাচ্ছে প্রকল্পের অর্থ। হিসাবের খাতায় মিল থাকলেও বাস্তবে রয়েছে অনেক গড়মিল। দাপ্তরিক প্রধানরা দায় এড়াতে ৫ অগষ্ঠকে ব্যবহার করছে। ভৌতিক বিল ভাউচারে প্রকল্পের টাকা অন্যের পকটে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ সরকারী বরাদ্দ (টিআর কর্মসূচি) গত ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় ৩য় কিস্তিতে চারঘাট পৌরসভার অনুকূলে মোট ১১,০০,২৩১.৮৯ টাকা (এগারো লক্ষ দুইশত একত্রিশ টাকা ৮৯ পয়সা) নগদ অর্থ উপ-বরাদ্দ দেয়া হয়। এই বরাদ্দের আওতায় পৌরসভা এলাকায় ০৭টি অনুমোদিত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়, যার মধ্যে মূলত স্থানীয় গলি-অবকাঠামো সংস্কার, মসজিদ, মন্দির ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান রক্ষণাবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। উপজেলা পরিষদের আনুমানিক রাজস্ব তথ্য (উপজেলা পরিষদ বাজেটের আওতাধীন) গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে সম্ভাব্য রাজস্ব আয় ধরা হয ১ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকা এবং সম্ভাব্য রাজস্ব ব্যয় ধরা হয ১ কোটি ৩৭ লক্ষ ২৬ হাজার ৩০০ টাকা। এছাড়া উন্নয়ন খাতের আয়-ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা।

এলাকাভেদে মোট ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পানির পাইপলাইন স্থাপন। ৫টি পাম্প হাউজ এবং ৬ লাখ ৮০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার ওভারহেড পানির ট্যাংক নির্মাণ। বর্তমান অবস্থা: অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন বা চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতা ও সড়কের সমন্বয় কাজের কারণে এটি চালুর প্রক্রিয়াধীন। সাধারণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও রাজস্ব খাতের প্রকল্প বিশেষ এডিপি ও রাজস্ব বাজেট বরাদ্দ: ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট পরিকল্পনা এবং বার্ষিক কাজের আওতায় অভ্যন্তরীণ রাস্তা সংস্কার, আরসিসি ড্রেন নির্মাণ, আরসি ড্রেনেজ সম্প্রসারণ, বৃক্ষরোপণ এবং স্ট্রিট লাইট বসানোর ছোট-বড় বিভিন্ন সাব-প্যাকেজ চলমান রয়েছে।

২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে চারঘাট পৌরসভা এবং উপজেলার জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপির) মোট বরাদ্দের হিসাব মূলত দুই স্তরে বিভক্ত: স্থানীয় পর্যায়ে চারঘাট উপজেলা ও পৌরসভা এডিপি বরাদ্দ।

সাধারণ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি):

২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে চারঘাট এলাকার জন্য ৪টি কিস্তিতে সম্ভাব্য মোট এডিপি বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ৮৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা। বিশেষ এডিপি – টিআর বরাদ্দের পাশাপাশি পৌরসভার আওতাধীন অবকাঠামো ও গলি সংস্কারের জন্য আলাদাভাবে বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে ১১ লাখ ২৭ হাজার টাকার সরকারি উপ-বরাদ্দ প্রদান করা হয়।

জাতীয় এডিপির আওতায় চারঘাট এলাকার মেগা প্রকল্প বরাদ্দে জাতীয় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (জাতিয় এডিপি) অংশ হিসেবে চারঘাট অঞ্চলের ভৌগোলিক ও অবকাঠামোগত নিরাপত্তার জন্য বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়। পদ্মা ও গঙ্গা নদীর তীর রক্ষা প্রকল্প। চারঘাট ও বাঘা উপজেলার নদীভাঙ্গন রোধ প্রকল্পে এডিপির আওতায় ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প: বানেশ্বর-সারদা-চারঘাট-বাঘা-লালপুর মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীতকরণের জন্য এডিপিতে ৮০ কোটি ৮১ লাখ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়।

গত ২০২৫-২০২৬ ও পরবর্তী অর্থবছরের বাজেট উন্মুক্ত বাজেট ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য চারঘাট পৌরসভায ৫৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকার সর্বমোট উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। মূল প্রকল্পসমূহে এই বরাদ্দের বড় একটি অংশ ব্যয় করা হচ্ছে পৌরসভার সড়ক উন্নয়ন ও পাকাকরণ, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ অবকাঠামো তৈরি, স্ট্রিট লাইটিং, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক পৌর নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণের কাজে নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ প্রকল্প (ইউজিপ-৩) বরাদ্দ ব্যয় প্রায় ১৭ কোটি টাকা।

পৌর এলাকার সড়ক উন্নয়ন ও পাকা করার কাজ (প্রায় ১৭ কিলোমিটার)। ড্রেনেজ অবকাঠামো ও ড্রেন নির্মাণ (প্রায ৫.৫ কিলোমিটার), ফুটপাত নির্মাণ। মূল উদ্দেশ্য ছিল পৌরসভার প্রধান প্রধান সড়ক গুলোর উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসন। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (এডিবি ও ওএফআইডি অর্থায়নে) বরাদ্দ ব্যয় প্রায় ৮ কোটি টাকা।

চারঘাট পৌরসভায় এডিপি প্রকল্পে সড়ক, ড্রেনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ চলমান থাকলেও তদারকিতে নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তর। স্থানীয়রা একাধিকবার পৌর প্রকৌশলী ও কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের জানালেও কর্ণপাত করছে না কেউ। পৌরসভার ৯টি ওর্য়াডের মধ্যে কিছু ওর্য়াডেই এডিপির কাজ চলমান রয়েছে। তবে ঠিকাদার অফিস লিয়াজু করেই উন্নয়নের নির্মাণ কাজ চলমান রেখেছেন।

এবিষয়ে বর্তমান দায়িত্বরত সহকারী প্রকৌশলী মজিবর রহমান বলেন, প্রত্যেক সাইডে পৌরসভার লোকজন নিয়োজিত রয়েছে। বিচ্ছিন্ন ভাবে কিছু অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রকৌশলী দপ্তর ওই সমস্যার সমাধান করছে। তবে র্সাবিক বিষয়ে পৌর প্রশাসক সিন্ধান্ত দিবেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক জান্নাতুল ফেরদৌস প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে কিছু জানেন না। তাছাড়া কোন অভিযোগ তার দপ্তরে আসেনি, কারো কোন অভিযোগ থাকলে লিখিত ভাবে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন। প্রকল্পের অর্থ সঠিক ব্যবহারে স্থানীয়দের অভিযোগ গুলো নিয়ে আইন শৃঙ্খলা সভায় আলোচনা করা হয়। কিন্ত প্রশাসক নির্ভরযোগ্য কোন উত্তর দেননি।

পড়ুন:চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন