নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর ১২টায় উপজেলার স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ সাজিউড়া উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে ‘যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ’ শীর্ষক এ কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের উদ্যোগে এবং স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি ও বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ-এর সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির ৭৫ জন শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি রইছ উদ্দিন মাষ্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাজিউড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা। অনুষ্ঠানে মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন ও এর বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থাপনা নিয়ে সারগর্ভ আলোচনা করেন পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চাঁদ সুলতানা।
বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কানিজ সুলতানা, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল হক ভূইয়া এবং স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সদস্য শহীদুল্লাহ্ খন্দকারসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন কেন্দুয়া স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক বাবু রাখাল বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের সাথে সরাসরি মতবিনিময় ও উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব। নেত্রকোনা স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির ব্যবস্থাপক কোহিনূর বেগম এ পর্বটি পরিচালনা করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের বয়ঃসন্ধিকালের বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যা, সামাজিক ভ্রান্ত ধারণা এবং এসব সমস্যা সমাধানে করণীয় সম্পর্কে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করে। কোহিনূর বেগম অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক উত্তর প্রদান করেন এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
ক্যাম্পেইনের শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথি ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা এ ধরনের সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও শিক্ষানুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে জানান, তার প্রতিষ্ঠানে পূর্বে গঠিত ‘যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি’ দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনর্গঠন করে তা পুনরায় সক্রিয় করা হবে, যাতে কোনো শিক্ষার্থীকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয়।
আয়োজকরা জানান, তৃণমূল পর্যায়ে কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই তাদের এমন ধারাবাহিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

