বিজ্ঞাপন

জুলাই আন্দোলন পূর্বপরিকল্পিত ছিল না, সর্বজনীন গণ-অভ্যুত্থান: ঢাবি অধ্যাপক ড. নিয়াজ

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেলের উদ্যোগে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান পুনর্মূল্যায়ন বিষয়ক বিশেষ পাবলিক লেকচার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের টিটিসি ভবনের কনফারেন্স কক্ষে ‘Education, Economics & Politics of Youthquakes: Bangladesh 2024 Revolution Revisited’ শীর্ষক এ জ্ঞানগর্ভ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের টিটিসি ভবনের কনফারেন্স কক্ষে এটিই ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক কোনো একাডেমিক আয়োজন। ফলে এটি কেবল পাবলিক লেকচারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং স্থায়ী ক্যাম্পাসে গবেষণা, জ্ঞানচর্চা ও মুক্ত বুদ্ধিবিনিময়ের নতুন এক অধ্যায়ের সূচনার প্রতীক হিসেবেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও অভিজ্ঞতা নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ফজলুল হক এবং হাফসা ইসলাম মোহ।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের স্বনামধন্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহ। তিনি তার তথ্যবহুল ও গবেষণাভিত্তিক উপস্থাপনায় ২০১৩, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের বিভিন্ন পরিসংখ্যান, জরিপ ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গতিশীলতার সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেন।

ড. আসাদুল্লাহ তার বক্তব্যে যুক্তি উপস্থাপন করেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন কোনো পূর্বপরিকল্পিত বা ‘Meticulous Design’ এর ফল ছিল না। বরং সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে সূচিত এই আন্দোলন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সর্বজনীন গণ-অভ্যুত্থানে রূপান্তরিত হয়েছিল।

তার গবেষণায় উঠে আসে, এই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের শিক্ষা, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে এক নতুন বাস্তবতার সূচনা করেছে। তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তিনি তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, উচ্চশিক্ষার পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, রাষ্ট্রীয় নীতির রূপান্তর এবং গণতান্ত্রিক বিকাশের বহুমাত্রিক দিকগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন।

পাবলিক লেকচারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ আশরাফুল মুনিম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আনিছা পারভীন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরীন ইসলাম খান।

তারা তাদের বক্তব্যে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের সমকালীন ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলিকে তথ্যভিত্তিক গবেষণা, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ এবং মুক্ত একাডেমিক আলোচনার মাধ্যমে পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচকদের মতে, এ ধরনের গবেষণাভিত্তিক চর্চা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশের সঠিক ইতিহাস, রাষ্ট্রচিন্তা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পর্কে গভীরতর উপলব্ধি অর্জনে ব্যাপক সহায়তা করবে।

আলোচনা পর্ব শেষে সম্মাননা প্রদান করা হয়। ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ আশরাফুল মুনিম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক অধ্যাপক ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। পরবর্তীতে ভাইস-চ্যান্সেলর এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আনিছা পারভীন যৌথভাবে আলোচক অধ্যাপক ড. নাহরীন ইসলাম খানের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন এবং আইকিউএসি (IQAC) সেলের পরিচালক ড. মো. হেলাল উদ্দিন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি উপস্থিত অতিথি, বক্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক জনাব ছহীহ্ শাফি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষকমণ্ডলী, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত থেকে এই মুক্ত আলোচনা ও জ্ঞানচর্চায় অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : সুনামগঞ্জে বাবার পাশ থেকে নিখোঁজ ১১ মাসের শিশুর মরদেহ সেফটি ট্যাংক থেকে উদ্ধার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন