বিজ্ঞাপন

নেত্রকোনায় কুখ্যাত মাদক সম্রাজ্ঞী ললিতাসহ আটক ৩, হেরোইন উদ্ধার

নেত্রকোনায় বিপুল পরিমাণ হেরোইনসহ কুখ্যাত মাদক সম্রাজ্ঞী ললিতা আক্তার (৪৫) এবং তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), জেলা কার্যালয়। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে বেলা ১১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১২৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য সাড়ে ১২ লাখ টাকার বেশি।

গ্রেপ্তারকৃতদেররা হলো- মো. সাগর আহমদ (৩৮): পিতা- মো. লোকমান আলী, মাতা- মর্জিনা বেগম। গ্রাম- ধরমপুর, ইউনিয়ন- হরিয়ান (৮নং ওয়ার্ড), থানা- মতিহার, জেলা- রাজশাহী। মো. মাসুদ (৪২): পিতা- মৃত মুলফত আলী, মাতা- রোকেয়া বেগম। ঠিকানা- বারহাট্টা রোড (গরুহাট্টা), ৪নং ওয়ার্ড, নেত্রকোনা সদর। ললিতা আক্তার (৪৫): স্বামী- মৃত বিপ্লব মিয়া, মাতা- রাজবানু। গ্রাম- গোপালপুর, থানা- বারহাট্টা, জেলা- নেত্রকোনা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নেত্রকোনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক-এর নেতৃত্বে একটি রেইডিং টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার ভোরে নেত্রকোনা সদর থানাধীন চল্লিশা ইউনিয়নের হেনা ইসলাম কলেজের পূর্বপাশে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে। যানবাহন তল্লাশিকালে সন্দেহভাজন হিসেবে মো. সাগর আহমদ (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তার শরীর তল্লাশি করে সিনথেটিক ব্যাগের ভেতর পলি প্যাকেটে মোড়ানো ১২৫ গ্রাম হেরোইন পাওয়া যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামি সাগর আহমদ তার অন্যান্য সহযোগীদের তথ্য প্রকাশ করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসি’র দল তাৎক্ষণিক অভিযান চালায় নেত্রকোনা সদর থানার গরুহাট্টা এলাকায় অবস্থিত মো. মোফাজ্জলের খাবার হোটেলে। সেখান থেকে চক্রের আরেক সদস্য মো. মাসুদকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে তাদের উভয়ের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বারহাট্টা উপজেলার গোপালপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতা ও কুখ্যাত মাদক সম্রাজ্ঞী ললিতা আক্তারকে তার নিজ বসতবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএনসি জানায়, এই তিন আসামি দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক যোগসাজশে আন্তঃজেলা মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। এর মধ্যে ললিতা আক্তারের বিরুদ্ধে পূর্বেই সাতটি মাদক মামলা রয়েছে।

অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে ১২৫ গ্রাম হেরোইনের পাশাপাশি মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত দুটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত হেরোইনের অবৈধ বাজারমূল্য ১২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং মোবাইল সেটের মূল্য পাঁচ হাজার টাকাসহ জব্দকৃত আলামতের মূল্য ১২ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক মো. নাজমুল হুদা বাদী হয়ে নেত্রকোনা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরে করেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নেত্রকোনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক জানান, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান সর্বদা সোচ্চার এবং তারা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : চরফ্যাশনে পুকুরে ডুবে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু, শোকের ছায়া

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন