আন্দোলন প্রত্যাহারের পরও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানির অভিযোগ তুলে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলেও গভীর রাতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হয়েছে। বৈঠকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২৮ জুলাই) গভীর রাতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিজেপির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে সংগঠনটি জানায়, কোনো বিক্ষোভকারীকে একা ছেড়ে দেওয়া হবে না এবং সবাই একসঙ্গেই থাকবে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন (নোটিফিকেশন) জারির আশ্বাসও সরকার দিয়েছে বলে দাবি করে তারা।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে সিজেপি অভিযোগ করেছিল, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। এ কারণে তারা নতুন করে আন্দোলনের ঘোষণাও দিয়েছিল। পরে কর্মকর্তারা বিহার ও আসাম সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনের কপি তাদের কাছে হস্তান্তর করেন, যেখানে বিক্ষোভকারীদের জন্য ছাড় দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
সোমবার রাত ১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সরকার পুনরায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপি/এনডিএ-শাসিত অন্যান্য রাজ্যেও একই ধরনের সুরক্ষামূলক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
তিনি বলেন, সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুই থেকে তিন ঘণ্টার বৈঠকে বিহার ও আসাম সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনের কপি তাদের দেওয়া হয়েছে। সেখানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তির নিশ্চয়তার কথা উল্লেখ রয়েছে।
সৌরভ দাস আরও জানান, কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপি/এনডিএ-শাসিত অন্যান্য রাজ্য থেকেও একই ধরনের প্রজ্ঞাপন জারির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। তাঁর আশা, সমঝোতায় যে ভাষা নিয়ে একমত হওয়া হয়েছে, সরকার সেটিই অনুসরণ করবে।
বৈঠকের পর প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, সরকারের আশ্বাস বাস্তবায়ন হবে কি না—সে বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা প্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে। জবাবে বিহার স্বরাষ্ট্র বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে কর্মকর্তারা বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা সব এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, অন্যান্য রাজ্য থেকেও একই ধরনের প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে, যাতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কেউ আইনি জটিলতার মুখে না পড়েন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবারের মধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে এবং বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
সৌরভ দাস বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রত্যেকের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সিজেপি কাজ চালিয়ে যাবে। নিজ নিজ এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো বিক্ষোভকারী যেন আইনি হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও তারা নজর রাখবেন।
এর আগে সোমবার সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, সমঝোতা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীরা এখনো পুলিশি পদক্ষেপের মুখোমুখি হচ্ছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভকারীদের নজরদারি ও হয়রানি করা হচ্ছে। আন্দোলনের লজিস্টিক সহায়তায় যুক্ত স্বেচ্ছাসেবকদের আটকের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাঙ্কা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, সমঝোতা বাস্তবায়ন না হলে সিজেপি আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
পড়ুন: দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন
আর/


