বিজ্ঞাপন

ফ্রান্সের নতুন কোচ জিনেদিন জিদান

অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান।

বিজ্ঞাপন

চুক্তিটা প্রায় নিশ্চিত হয়েই ছিল। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর থেকেই অপেক্ষা চলছিল শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। সবার প্রিয় ‘জিজু’ ফ্রান্সের নতুন কোচ।

কিন্তু কোথায় যেন আটকে যাচ্ছিল। অবশেষ সেই ‘জট খুলল’ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই)। অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে জিদানের নাম ঘোষণা করেছে ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। চার বছরের চুক্তিতে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ‘লেস ব্লু’-দের দায়িত্বে থাকবেন ফরাসি কিংবদন্তি।

বিশ্বকাপের পর থেকেই দিদিয়ের দেশমের উত্তরসূরি হিসেবে জিদানের নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়ে গেলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পিছিয়ে যাচ্ছিল অজানা কারণে। শেষ পর্যন্ত সব জটিলতা কাটিয়ে জিদানকে নতুন প্রধান কোচের ব্যাটন তুলে দিল ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন।

এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আবারও কোচিংয়ে ফিরলেন ৫৪ বছর বয়সী জিদান। ২০২১ সালে দ্বিতীয় দফায় রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব ছাড়ার পর আর কোনো ক্লাব বা জাতীয় দলের কোচ হননি তিনি। এবার নিজের দেশের জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েই কোচিং ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন।

ফুটবলার হিসেবে জিদানের অর্জনের তালিকা যেমন সমৃদ্ধ, কোচ হিসেবেও তেমনি ঈর্ষণীয়। ১৯৯৮ সালে খেলোয়াড় হিসেবে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানো এই কিংবদন্তি রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হয়ে ২০১৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টানা তিনবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়েন। তার নেতৃত্বে রিয়াল দুটি লা লিগা, দুটি উয়েফা সুপার কাপ, দুটি ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ ও দুটি স্প্যানিশ সুপার কাপও জিতেছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর জিদান বলেন, “ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হওয়া আমার জন্য অসাধারণ সম্মানের। আমি বহুবার বলেছি, ফ্রান্স জাতীয় দলের চেয়ে বড় কিছু নেই। এই দায়িত্ব পাওয়া যেমন আনন্দের, তেমনি অনেক বড় গর্বের বিষয়।”

তিনি আরও বলেন, “এই দায়িত্বের গুরুত্বও অনেক বেশি। আমাকে বিশ্বাস করার জন্য ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি, নির্বাহী কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ। জাতীয় দলকে নিয়ে আমার বড় স্বপ্ন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে।”

জিদানের আগে টানা ১৪ বছর ফ্রান্সের কোচ ছিলেন দিদিয়ের দেশম। তার অধীনে ২০১৮ বিশ্বকাপ, একটি উয়েফা নেশনস লিগ ও একটি ইউরো শিরোপা জেতে ফ্রান্স। তবে সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি দলটি। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ গোলে হেরে চতুর্থ হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করে ফরাসিরা।

ফ্রান্সের কোচ হিসেবে জিদানের সামনে রয়েছে আরেকটি ঐতিহাসিক সুযোগও। ১৯৯৮ সালে খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ী এই কিংবদন্তি যদি কোচ হিসেবেও ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারেন, তবে ফুটবল ইতিহাসে খেলোয়াড় ও কোচ দুই ভূমিকায় বিশ্বকাপজয়ী চতুর্থ ব্যক্তি হবেন তিনি। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন ব্রাজিলের মারিও জাগালো, জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার এবং ফ্রান্সের দিদিয়ের দেশম।

পড়ুন : দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন