স্ত্রী, তিন ছেলে ও পুত্রবধূ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে। আর চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার গ্রামের বাড়িতে একাই বসবাস করতেন আবদুর রহমান (৬৫)। পরিবারের সদস্যরা ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর সাড়া না পেয়ে খোঁজ নিতে বলেন। পরে ঘরের দরজা খুলে খাটের ওপর তাঁর গলিত মরদেহ পাওয়া যায়।
সোমবার বিকেলে উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নগরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবদুর রহমান স্থানীয় মিয়া সওদাগরের ছেলে। খবর পেয়ে চন্দনাইশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আবদুর রহমান দীর্ঘদিন দুবাইয়ে বসবাস করতেন। প্রায় দেড় বছর আগে দেশে ফিরে আসার পর আর বিদেশে যাননি। গ্রামের বাড়িতে একাই থাকতেন এবং নিজের রান্নাসহ দৈনন্দিন সব কাজ নিজেই করতেন। তাঁর স্ত্রী বর্তমানে দুবাইয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিন ছেলে ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও সেখানে বসবাস করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে দুবাই থেকে তাঁকে একাধিকবার ফোন করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তাঁরা ছোট ছেলের স্ত্রীকে খোঁজ নিতে বলেন। তিনি দোহাজারীতে বাবার বাড়ি থেকে এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে খাটের ওপর আবদুর রহমানের গলিত মরদেহ দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ জানায়, মরদেহে ব্যাপক পচন ধরেছিল। শরীরের বিভিন্ন স্থানে পোকা লেগে যায় এবং ঘরজুড়ে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিন থেকে চার দিন আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
চন্দনাইশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিটন মিয়া বলেন, স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আবদুর রহমানকে সর্বশেষ বাড়ির পাশের একটি চায়ের দোকানে দেখা যায়। এরপর থেকে তিনি আর বাইরে বের হননি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আবদুর রহমানের মেজ ছেলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর পরিবারের সদস্যরা দুবাইয়ে ফিরে গেলেও তিনি দেশে থেকে যান। মেজ ছেলের স্ত্রী দোহাজারীতে বাবার বাড়িতে থাকেন এবং মাঝেমধ্যে এসে শ্বশুরের খোঁজখবর নিতেন। সোমবার খোঁজ নিতে এসেই তিনি এই মর্মান্তিক ঘটনার সন্ধান পান।
চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সোলাইমান ফারুকী বলেন, আবদুর রহমান একাই চলাফেরা করতেন। স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁর খুব বেশি মেলামেশা ছিল না। তাঁর এমন মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।
ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার বাদ মাগরিব নগরপাড়া এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে আবদুর রহমানের দাফন সম্পন্ন করা হয়। দাফানে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন:এনসিপির পদযাত্রায় হামলার অভিযোগ, সারজিস ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আহত
ইমি/


