বিজ্ঞাপন

সাদুল্লাপুরে ধারের টাকা কেন্দ্র করে অপহরণ নিযার্তনে ইলেকট্রিক শকের ব্যবহার

মাত্র ৭ হাজার টাকাকে কেন্দ্র করে সাদুল্লাপুর উপজেলায় অপহরণের পর অমানষিক নিযার্তন করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এদিকে বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী বিপুল প্রামানিক একটি এজাহার দায়ের করলেও সাদুল্লাপুর থানা অজানা কারণে আমলে নেয় নি।

বিজ্ঞাপন

এজাহার সূত্রে, সাদুল্লাপুর উপজেলার খোদ্দর্ মোজাহিদপুর গ্রামের বিপুল প্রামানিক গত ১ বছর পূর্বে ঘেগার বাজারের আরিফুল ইসলামের নিকট থেকে ৭ হাজার টাকা ধারে গ্রহণ করে। টাকাটি একাধিকবার পরিশোধ করার পরেও আরিফুল পুনরায় টাকা প্রদানের চাপ দিতে থাকে। এ নিয়ে আরিফুলের সাথে বিপুলের একটি দ্বন্দ চলছিল। এ ঘটনার জেরে গত ২০ মে দিবাগত রাত সাড়ে ৯টায় আরিফুল সহ মোটে ১০/১২ জন ব্যক্তি এক অটো ইজি বাইকে বিপুলকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর শুরু হয় বিপুল প্রামানিকের উপর অমানষিক নির্যাতন। নিযার্তনকারীরা মুক্তিপণ টাকা চেয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ইলেকট্রিক শক প্রদান করেছে। ইলেকট্রিক শকের আলামত পেয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। সাংবাদিকদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিপুল প্রামাণিকের দায়ের করা এজাহারে উল্লেখিত ব্যক্তিদ্বয়— আরিফুল ইসলাম, নিশাত মিয়া, আপেল মিয়া, ফারুক মিয়া, ফুল বাবু, সহ আরও ৫/৭ জন অজ্ঞাত।

ভুক্তভোগী ও এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, মাত্র ৭ হাজার টাকাকে কেন্দ্র করে লক্ষ টাকার দাবি করে বসে এজাহারে উল্লেখিত ব্যক্তিদ্বয়। শুধু এমনটি করে খ্যান্ত থাকেনি অপহরণকারীরা। টাকা না দেওয়ায় আরিফুল সহ তার সহযোগীরা বিপুল প্রামানিককে মারপিট করে ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করে ১শ টাকার ৫টি ফাঁকা নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পেও জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়েছে বলে জানায় এ ভুক্তভোগী। বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারের।

এ ব্যাপারে শুক্রবার মুঠোফোনে ভুক্তভোগী বিপুল প্রামাণিক বলেন, আমাকে অপহরণ করার পর মুক্তিপণের জন্য চাপ দেয় তারা। আমি প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাকে মারপিট ও ইলেকট্রিক শক দেয়। তিনি আরও বলেন, উদ্ধারের পর সাদুল্লাপুর থানায় লিখিত এজাহার করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ সম্ভব হয় নি।

থানা পুলিশের ভুমিকা নিয়ে বিপুল প্রামানিকের মনে ব্যাপক হতাশা ও ন্যায়বিচার হতে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) এ.কে.এম হাবিবুল ইসলামকে মুঠোফোনে কল করে ও হোয়াটসএ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

মাত্র ৭ হাজার টাকাকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনার দোষীদের সুষ্ঠু তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনের আওতায় না আনা হলে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী বিপুল প্রামানিক বিষয়টি নিয়ে গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে অবগত করবেন বলে জানা গেছে।

পড়ুন: ১৪৪ ধারার মধ্যেই হবিগঞ্জে বিক্ষোভ করতে যাচ্ছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন