বিজ্ঞাপন

গাজায় গণহত্যায় ইসরায়েলকে অস্ত্র দিচ্ছে ভারত: অ্যামনেস্টি

গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরাইলকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে ভারত বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির অভিযোগ, এসব সামরিক সরঞ্জাম ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হলেও ভারত সরবরাহ বন্ধ করেনি।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরে অ্যামনেস্টি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভারত থেকে ইসরাইলে পাঠানো ২ হাজার ৫৯৬টি অস্ত্র, গোলাবারুদ, যন্ত্রাংশ ও সামরিক সরঞ্জামের চালান বিশ্লেষণ করেছে সংস্থাটি।

অ্যামনেস্টির তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় কোম্পানিগুলো ইসরাইলের সামরিক সরবরাহকারীদের কাছে অন্তত ৩ লাখ ৯০ হাজার ৫১৬টি ছোট অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭০টি বিস্ফোরক অস্ত্রের উপাদান—যার মধ্যে ড্রোনের ওয়ারহেড ও আর্টিলারি শেলের খোল রয়েছে—এবং ২৯৮টি সামরিক যানবাহনের উপাদান সরবরাহ করেছে।

সংস্থাটির দাবি, বাণিজ্যিক চালানের তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা নিশ্চিত হয়েছে, এসব সামরিক সরঞ্জাম ইসরাইলের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে। পরে সেগুলো দেশটির সেনাবাহিনীর কাছে সরবরাহ করা হয়েছে, যা গাজায় ব্যবহৃত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে আল জাজিরা ভারতের কাস্টমসের ৯১টি রপ্তানি নথি সংগ্রহ করে। সেখানে ২০২৪ সালে ইসরাইলে বোমা ও গ্রেনেড-সংক্রান্ত যন্ত্রাংশ রপ্তানির তথ্য পাওয়া যায়। এসব চালানের ক্রেতাদের মধ্যে ছিল রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস, আইএমআই সিস্টেমস লিমিটেড এবং এমসিটি মেটারিয়ালস।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, গাজায় কী ঘটছে তা বিশ্ব প্রতিদিন দেখছে। এরপরও ভারত ইসরাইলের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারত শুধু অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়নি, বরং ইসরাইলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করেছে।

২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) গাজায় সম্ভাব্য গণহত্যা ঠেকাতে ইসরাইলকে ব্যবস্থা নেওয়ার অন্তর্বর্তী আদেশ দেন। এরপর জাতিসংঘের একাধিক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছে।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপরি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরাইলের মোট অস্ত্র রপ্তানির ২৯ শতাংশ গেছে ভারতে। একই সময়ে ভারতের মোট অস্ত্র আমদানির ১৫ শতাংশ এসেছে ইসরাইল থেকে।

২০২৫ সালের নভেম্বরে দুই দেশ নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি সই করে সামরিক, শিল্প ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা দেয়। এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন