বিজ্ঞাপন

মডেল নিকুঞ্জ টানপাড়া গড়ার অঙ্গীকার, এবার লক্ষ্য মাদকমুক্ত আবাসিক এলাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ টানপাড়াকে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত, মানবিক ও মাদকমুক্ত আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি। দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সমস্যা সমাধান, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ, অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা সংগঠনটি এবার এলাকাকে ‘মাদকমুক্ত এলাকা’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় সোসাইটির নিজস্ব কার্যালয়ে নবগঠিত নির্বাহী কমিটির প্রথম বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা, সংগঠনের সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণ এবং মাদকবিরোধী আন্দোলনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ নিকুঞ্জ টানপাড়াকে রাজধানীর অন্যতম আদর্শ আবাসিক এলাকায় পরিণত করার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল। সভা পরিচালনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুকুল হোসাইন মৃধা।
সভায় বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক সৈকত সরকার, সহ-সভাপতি প্রিন্সিপাল মো. মিসবাহ উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এ. এম. আইয়ুব পাপ্পু, কোষাধ্যক্ষ মতিউর রহমান স্বপন, ক্রীড়া সম্পাদক নুরুল আমিন মজুমদার (ঝিন্টু) এবং দপ্তর সম্পাদক ডা. আতিকুর রহমান খান।

এ ছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, প্রচার সম্পাদক আমির হোসেন, নির্বাহী সদস্য এমদাদুল হক সোহেল, জিসাদ ইকবাল, মাহফুজুর রহমান, জাহিদুল হক জুয়েল, মোস্তফা সিকদার, লিটু আহমেদ লিটন, ইঞ্জিনিয়ার আলতাফ হোসেন, তাসবির ইকবালসহ অন্যান্য সদস্যরা।

সভাপতির বক্তব্যে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি সুন্দর আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা নয়; আমরা এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেখানে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ থাকবে। নিকুঞ্জ টানপাড়াকে আমরা এমন একটি মডেল আবাসিক এলাকায় পরিণত করতে চাই, যা দেশের অন্য এলাকাগুলোর জন্যও অনুসরণীয় উদাহরণ হবে।”

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, অসংখ্য সভা-সমাবেশ, জনসচেতনতা কার্যক্রম, প্রশাসনের সহযোগিতা এবং এলাকাবাসীর ঐক্যবদ্ধ সমর্থনের ফলে নিকুঞ্জ টানপাড়া থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কার্যত বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। গত প্রায় ১৫ মাস ধরে এই সিদ্ধান্ত সফলভাবে বাস্তবায়িত হওয়ায় এলাকায় যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস পেয়েছে এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হয়েছে। এই সাফল্য এলাকাবাসীর ঐক্য ও সামাজিক উদ্যোগের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জাহিদ ইকবাল আরও বলেন, “এবার আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য নিকুঞ্জ টানপাড়াকে মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবার, একটি প্রজন্ম এবং পুরো সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান হবে সম্পূর্ণ আপসহীন। প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবার, প্রতিটি তরুণ এবং প্রতিটি সচেতন নাগরিককে এই সামাজিক আন্দোলনের অংশ হতে হবে।”

তিনি জানান, খুব শিগগিরই মাদকবিরোধী গণসচেতনতামূলক প্রচারণা, উঠান বৈঠক, শিক্ষার্থী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রম, অভিভাবকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

ঔসাধারণ সম্পাদক সৈকত সরকার বলেন, নিকুঞ্জ টানপাড়া রাজধানীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকা। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন নাগরিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি এলাকাবাসীকেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, “এই চ্যালেঞ্জ থেকে পিছিয়ে গেলে চলবে না। যার যার অবস্থান থেকে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা এমন একটি অংশগ্রহণমূলক সমাজ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি মানুষ এলাকার উন্নয়নকে নিজের দায়িত্ব বলে মনে করবে। নাগরিক সচেতনতা এবং সামাজিক ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

মাদকবিরোধী কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মাদক একটি জাতির ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি। তরুণদের খেলাধুলা, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন ইতিবাচক সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিরোধই মাদক নির্মূলের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।”

সাংগঠনিক সম্পাদক এ. এম. আইয়ুব পাপ্পু বলেন, একটি সংগঠনের প্রকৃত শক্তি পদ-পদবীতে নয়; বরং জনগণের আস্থা, পারস্পরিক ঐক্য এবং ধারাবাহিক জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে। নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি সেই বিশ্বাস থেকেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের পাশে থেকে প্রতিটি নাগরিক সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানে ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি গত প্রায় তিন দশক ধরে এলাকাভিত্তিক সামাজিক উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংগঠনটি এলাকাবাসীর আস্থা অর্জন করে একটি সুসংগঠিত ও গ্রহণযোগ্য সামাজিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশামুক্ত এলাকা প্রতিষ্ঠা, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম, অবৈধ দখল ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উদ্যোগ সংগঠনটির কার্যক্রমকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

সভায় উপস্থিত সদস্যরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নবগঠিত কমিটির নেতৃত্বে নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি আগামী দিনেও একই নিষ্ঠা, সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে। বিশেষ করে মাদকমুক্ত, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আধুনিক নিকুঞ্জ টানপাড়া গড়ে তোলার যে অঙ্গীকার এই সভা থেকে উচ্চারিত হয়েছে, তা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর আবাসিক এলাকাগুলোর জন্য একটি কার্যকর সামাজিক উন্নয়নের মডেল হিসেবে নিকুঞ্জ টানপাড়া প্রতিষ্ঠিত হতে পারে এবং দেশব্যাপী জনসম্পৃক্ত উন্নয়নের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।

পড়ুন: মরিচের কেজি ৪০০, শতকের ঘরে সবজি

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন