কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতির ফলে অল্প বয়সেই প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুযোগ অনেক বেড়েছে। একই সঙ্গে তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বাড়ছে। তবে এই আগ্রহের পাশাপাশি দ্রুত সফল হওয়ার চাপও বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চ।
এর অন্যতম উদাহরণ কাজাখস্তানের ১৯ বছর বয়সী উদ্যোক্তা আরলান রাখমেৎঝানভ। মাত্র ১৫ বছর বয়সে প্রোগ্রামিং শুরু করে তিনি পরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্টার্টআপ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠান এআইভিত্তিক সফটওয়্যার সেবার জন্য একটি সূচিপত্রভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরি করছে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে। রাখমেৎঝানভের ভাষায়, তিনি হয় গুগলের মতো বড় প্রতিষ্ঠান গড়বেন, নয়তো পুরোপুরি ব্যর্থ হবেন। তার মতে, অনেক তরুণ উদ্যোক্তার চিন্তাধারাও এখন এমনই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে বিনিয়োগকারীরা অভিজ্ঞ উদ্যোক্তা বা বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ব্যক্তিদের বেশি গুরুত্ব দিতেন। কিন্তু এআই প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে এখন কম অভিজ্ঞতাতেও নতুন উদ্যোগ শুরু করা সহজ হয়েছে। ফলে উদ্যোক্তার বয়সের চেয়ে প্রযুক্তিগত দক্ষতা, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা এবং উন্মুক্ত সফটওয়্যার প্রকল্পে অবদানকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।
১৯ বছর বয়সী উদ্যোক্তা প্রাঞ্জালি আওয়াস্থিও এই পরিবর্তনের উদাহরণ। তিনি পড়াশোনা ছেড়ে এআইভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান গড়েছেন এবং পরে আরও একটি নতুন উদ্যোগ শুরু করেছেন। তার মতে, আগে কম বয়সের কারণে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হলেও এখন সেই পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে।
তবে বিনিয়োগকারীরা বলছেন, বর্তমান বাজারে প্রতিযোগিতা আগের চেয়ে অনেক বেশি। প্রাথমিক পর্যায়ের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ভারমিলিয়নের অংশীদার অ্যাশলি স্মিথ জানান, আগে নতুন প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার জন্য সময় দেওয়া হতো। এখন কয়েক মাসের মধ্যেই প্রবৃদ্ধির প্রমাণ দেখতে চান বিনিয়োগকারীরা। এ কারণে অনেক তরুণ উদ্যোক্তা ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের সাফল্য তুলে ধরার দিকেও বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।
বিনিয়োগকারী টিমোথি চেনের মতে, এখন শুধু বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নয়, নতুন স্টার্টআপগুলোর মধ্যেও তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ২০ বছর বয়সী উদ্যোক্তা এইডান গুও মনে করেন, ব্যবসার চাপের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনাও তরুণ উদ্যোক্তাদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে উদ্যোক্তাদের মতে, শেষ পর্যন্ত সাফল্যের মূল চাবিকাঠি একই—গ্রাহকের চাহিদা বোঝা, মানসম্মত পণ্য তৈরি করা এবং লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হওয়া। বয়স নয়, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাই ভবিষ্যতের সফলতা নির্ধারণ করবে।
পড়ুন:প্রথমবারের মতো লটারির মাধ্যমে ৭৬৭ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে বদলি
ইমি/


