বিজ্ঞাপন

ড. ইউনূস কি হচ্ছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি?

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বঙ্গভবনের সর্বোচ্চ আসনে কে বসছেন?

বিজ্ঞাপন

সংবিধান অনুযায়ী, আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ। ক্ষমতাসীন বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামও।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ড. ইউনূসের নাম আলোচনায় আসার পেছনে তার আন্তর্জাতিক পরিচিতি, নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি এবং বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া এই অর্থনীতিবিদ ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব মূলত সাংবিধানিক হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যক্তিত্ব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কোনো ব্যক্তিকে এই পদে দায়িত্ব দেওয়া হলে সরকারের কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।

তবে ড. ইউনূসের নাম আলোচনায় আসায় বিএনপির ভেতরে তৈরি হয়েছে ভিন্ন রাজনৈতিক হিসাব। একদিকে রয়েছে তার আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি, অন্যদিকে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলনে দলের সঙ্গে থাকা পরীক্ষিত নেতাদের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসানোর দাবি।

এদিকে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির ভেতর থেকে কয়েকজন অভিজ্ঞ নেতার নামও আলোচনায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী ও ড. আবদুল মঈন খান।

এদিকে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদকেই স্থায়ীভাবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে অতীতের কিছু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে দলটির ভেতরে এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে বলেও জানা গেছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকেই নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

অন্যদিকে বিএনপি প্রধানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল মনে করেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই পদে এমন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত, যিনি রাজনৈতিকভাবে পরীক্ষিত এবং দলের আদর্শের প্রতি আস্থাশীল।

তবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, দলের গঠনতন্ত্র ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত ব্যক্তির নাম জানানো হবে।

এখন সবার নজর বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। শেষ পর্যন্ত দলটি রাষ্ট্রপতি পদে রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ কোনো নেতাকে বেছে নেয়, নাকি আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে ড. ইউনূসের মতো ব্যক্তিত্বের দিকে এগোয়—সেটিই আগামী দিনের অন্যতম বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন।

পড়ুন: র‌্যাবের ‘আয়নাঘরে’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন