বিজ্ঞাপন

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর ঢাকা সফরে কী বার্তা দিয়ে গেলেন?

তিন দিনের ঢাকা সফর শেষে বাংলাদেশ ছেড়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। শেষ দিন শনিবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বৈঠকও করেছেন মি. গর।

বৈঠক শেষে সার্জিও গর সাংবাদিকদের বলেছেন, “শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিনিয়োগকারী বাংলাদেশ সফরে আসবেন। সফরের সময় তারা সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাত পর্যালোচনা করবেন এবং কোথায় বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে সে বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করবেন”।

ওই বৈঠক শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, “বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির প্রায় ৪৫ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফরে আসবেন। তারা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন”।

তিন দিনের এই সফরে মার্কিন এই কূটনীতিক কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর করেন শুক্রবার। তারের রহমানের সাথে শনিবারের বৈঠকে যে কারণে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার তিনদিনের সফরে ঢাকায় আসেন মার্কিন এই কুটনীতিক। সফরের প্রথম দিনই তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সাথেও বৈঠক করেন।

কূটনীতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক দিক ছাড়াও তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কেমন হবে সেদিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল এই সফরটি।

সাবেক রাষ্ট্রদূত সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন সরকার গঠনের পর অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রকাল ট্যারিফ বা এআরটি’র উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত এই অ্যাগ্রিমেন্ট নিয়ে বাংলাদেশ সরকার কি ভাবছে বা কি করছে সেটির মূল্যায়নও হয়তো তিনি করেছেন”।

তিন দিনের সফরের শেষ দিন শনিবার তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে তারেক রহমানের সাথে বৈঠক করেন সার্জিও গোর।

ওই বৈঠকে শেষে সেখান থেকে বের হয়ে গণমাধ্যমে সাথে খুব অল্প সময়ের জন্য কথা বলেন মি. গর।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে এই বৈঠক শেষে এ নিয়ে নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টও দেন মি. গর। সেখানে তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উভয় দেশের সামনে থাকা বিস্তৃত সুযোগ-সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাস্তব ও ইতিবাচক ফল অর্জন সম্ভব”।

বিকেলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে পাঠানো একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন বা এফডিএ-এর সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। মি: গোর আশ্বাস প্রদান করেন যে বাংলাদেশে এফডিএ-র পরীক্ষাকার্য পুনরায় শুরু করার বিষয়ে তিনি সহায়তা করবেন’।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সফরের প্রথম দিনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বিশেষ দূত যখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেন, তারপর বাংলাদেশের জন্য জারি করা ভ্রমণ সতর্কতা বা ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি হালনাগাদেরও ঘোষণা দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র মনে করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। ইঙ্গিত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য বিদ্যমান ট্রাভেল অ্যাডভাইসারির ইতিবাচক সংশোধন করেছে ।এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে যে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত’।

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির মনে করেন, এই ভ্রমণ সতর্কতা কমানোও একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত। তিনি বলছিলেন, “হয়তো যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বর্তমান পরিবেশ সম্পর্কে আস্থা পেয়েছে সে কারণে ভ্রমণ সতর্কতা কমিয়েছে। তবে এটি ধরে রাখতে হলে আমাদের অর্থনৈতিক কাঠামো আরো স্থিতিশীল হতে হবে”।

বিজ্ঞাপন

সূত্র : বিবিসি বাংলা

পড়ুন : তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও বাংলাদেশের স্থিতিশীলতায় দৃঢ় আত্মবিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের: মাহ্দী আমিন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন