মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও জ্বালানি পরিশোধন (রিফাইনিং) মার্জিন বেড়ে যাওয়ায় রেকর্ড মুনাফা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের দুই জ্বালানি জায়ান্ট এক্সনমোবিল ও শেভরন।
শনিবার (২ আগস্ট) প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে এক্সনমোবিল জানিয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের নিট মুনাফা হয়েছে ১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। কোম্পানিটির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ইতিহাসের সর্বোচ্চ রিফাইনিং মার্জিন এ মুনাফার প্রধান কারণ।
অন্যদিকে, একই সময়ে শেভরন ১২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় পাঁচ গুণেরও বেশি।
ইরান পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে চাপ তৈরি হয়। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যায় এবং বড় তেল কোম্পানিগুলোর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
এক্সনমোবিল জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী রিফাইনিং সক্ষমতার প্রায় ৯ শতাংশ ব্যাহত হওয়ায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে রিফাইনিং মার্জিন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে কাতারের এলএনজি স্থাপনায় ক্ষতির কারণে কোম্পানিটির গ্যাস উৎপাদন কিছুটা কমেছে।
শেভরন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের গড় অপরিশোধিত তেলের বিক্রয়মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৪১ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬৪ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি ২০২৫ সালে হেস অধিগ্রহণের পর উৎপাদন বাড়ায় কোম্পানিটির আয় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে সৌদি আরব ও কুয়েতের মধ্যবর্তী পার্টিশনড জোনে উৎপাদন কমে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক রিফাইনারিগুলোতে অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণ কমে যাওয়ায় শেভরন কিছু নেতিবাচক প্রভাবের মুখেও পড়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারের ওপরে থাকায় ভোক্তাদের অসন্তোষ বাড়ছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে অর্থনৈতিক ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এই পরিস্থিতিতে বিপুল মুনাফা করলেও এক্সনমোবিল ও শেভরনের শেয়ারদর প্রাক-বাজার লেনদেনে যথাক্রমে ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।
পড়ুন: বাংলাদেশসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নিয়ম
আর/


