আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে আবারও বড় পতন হয়েছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতার আশা জোরালো হওয়ায় দাম আরও কমে যায়। এর ফলে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়ে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার আশায় মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম তিন সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, আলোচনা এমন পর্যায়ে এগিয়েছে যে চলতি সপ্তাহেই জাহাজ চলাচল আবার শুরু হতে পারে।
আর এই খবরেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে আসে। তবে গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে আগের আলোচনাগুলো ব্যর্থ হওয়ায় তেলের বাজারে অস্থিরতা বজায় রয়েছে। আর এর প্রভাব পড়ছে ভোক্তাদের ওপরও। অনেক দেশে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় গাড়িচালকদের বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইরান ও ওমানকে ঘিরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, চলতি সপ্তাহেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা হতে পারে। তার ভাষায়, প্রণালিতে ‘অবাধ নৌ চলাচল’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই আলোচনা এগোচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের আশাবাদের বিপরীতে ইরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি আলোচনা চলছে না। তেহরানের দাবি, তারা মধ্যস্থতাকারী ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নতুন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করছে। কাতারও জানিয়েছে, তারা কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করেছে। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি বড় অংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
এদিকে ইয়েমেনের উপকূলবর্তী লোহিত সাগরেও নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক জাহাজে হামলার ঘটনায় বিকল্প নৌপথ ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার ইয়েমেন উপকূলের কাছে একটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে হামলার পর সেটি ডুবে যায় বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে জাহাজে থাকা ১৪ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
পড়ুন : শ্রীলঙ্কায় বন্যা-ভূমিধসে নিহত ৭, বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ
সা/


