বিজ্ঞাপন

বৃষ্টি উপেক্ষা করে নেত্রকোনায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে মানুষের ঢল

“জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”- যুগোপযোগী ও প্রেরণাদায়ী এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নেত্রকোনায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’। বুধবার সকাল থেকেই বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর এবং সর্বস্তরের জনগণ দিবসটি পালন করে।

বিজ্ঞাপন

দিনের কর্মসূচির সূচনা হয় শহীদদের প্রতি নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল ৭টা ৫৯ মিনিটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মদানকারী বীর শহীদদের অসামান্য ত্যাগের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এরপর সকাল ৯টায় শহরের জয়ের বাজার মোড়ে অবস্থিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক, জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু এবং পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। বৃষ্টিমুখর সকালে ছাতা মাথায় দিয়ে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সেখানে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। তারা শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

দিবসটি উপলক্ষে কেবল পুষ্পস্তবক অর্পণই নয়, বরং জেলার বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই দিনটির গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং তরুণ প্রজন্মকে জুলাইয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

সব মিলিয়ে নেত্রকোনায় এবারের ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা পরিণত হয়েছিল শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে দেশ গড়ার এক নবজাগরণে।

পড়ুন : যে কারণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে হট্টগোল

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন