বাংলাদেশের মানুষ কখনও গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের গ্রহণ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিদেশে বসে তারা (আওয়ামী লীগ) বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা মাঝে-মধ্যে উঁকিঝুঁকি দিতে পারে, চিৎকার করতে পারে। এগুলোতে আমরা মনোযোগ দিচ্ছি না।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি ভারতে অনলাইনে যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কিসের হাসিনা? কোথায় বক্তব্য দিয়েছে? চেহারা দেখা গেছে? তারা মাঝে-মধ্যে আওয়াজ-টাওয়াজ দিয়ে থাকে। তারা চেষ্টা করছে বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় কি না। তারা বিদেশ থেকে মাঝে-মধ্যে উঁকিঝুঁকি দিতে পারে, চিৎকার করতে পারে। এগুলোতে আমরা মনোযোগ দিচ্ছি না।”
তিনি আরও বলেন, “যারা গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী, যাদের কোনো অনুশোচনা নেই এবং যারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি, তাদের কোনো রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষ কখনও গ্রহণ করবে না।”
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ভবন পরিদর্শন করেন এবং সেখানে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। পরে তিনি কলাতলীতে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
এ সময় তিনি বলেন, সমুদ্রসম্পদ ও সমুদ্রবন্দরকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে। নীল অর্থনীতির (ব্লু ইকোনমি) সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি জানান, কক্সবাজারের অপরিসীম পর্যটন সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখা সম্ভব।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “ইতোপূর্বে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় ইচ্ছেমতো বিভিন্ন এলাকাকে ইসিএ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। জরিপকার্য পরিচালনার মাধ্যমে পর্যটনের বিকাশের জন্য তা পুনর্বিবেচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করে পর্যটনের উন্নয়নে সব ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শুধু উঁচু ইমারত নির্মাণই পর্যটন হতে পারে না। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সব এলাকাজুড়েই এসব কর্মকাণ্ড হতে হবে। বিশ্বব্যাপী কক্সবাজারের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়ে ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করতে হবে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্ব না দিয়ে, পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই পর্যটন সম্প্রসারণের চেষ্টা করতে হবে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কক্সবাজারকে ঘিরে উচ্চশিক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার একটি মেরিন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সামুদ্রিক শিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।


