তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধে সুদানের ৮০ লাখের বেশি শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতে দেশটির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত, ধ্বংস কিংবা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর ফলে একটি পুরো প্রজন্ম ভবিষ্যৎ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
শনিবার (৮ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সুদানে চলমান যুদ্ধের এক হাজার ২১০তম দিনে শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক অনানুষ্ঠানিক অধিবেশনে দেশটির শিক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেন জাতিসংঘের উপমহাসচিব আমিনা মোহামেদ।
তিনি বলেন, চলমান সংঘাত সুদানের ‘পুরো একটি প্রজন্মকে’ তাদের ভবিষ্যৎ থেকে বঞ্চিত করছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর দারফুর অঞ্চলের প্রায় ৭৫ শতাংশ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত, ধ্বংস বা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়েছে।
আমিনা মোহামেদ বলেন, প্রতি ছয়জন শিশুর মধ্যে পাঁচজন বর্তমানে বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিভাবকেরা সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর বদলে বাড়িতে রাখাকেই নিরাপদ মনে করছেন। কারণ, তাদের কাছে বাড়িই এখন একমাত্র নিরাপদ জায়গা।
জাতিসংঘের তথ্য বলছে, ২০২৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত স্কুলে অন্তত ৬৭টি হামলা এবং ১৫৪টি ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সামরিক কাজে ব্যবহারের তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি বলে জানিয়েছেন আমিনা মোহামেদ।
যুদ্ধের প্রভাব শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; শিক্ষক ও সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাও বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। জাতিসংঘের উপমহাসচিব জানান, সুদানের অর্ধেকের বেশি শিক্ষক কোনো বেতন পাচ্ছেন না। এরপরও বহু শিক্ষক নানা বাধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।
আমিনা মোহামেদ বলেন, আগের যুদ্ধগুলোর কারণে সুদান ইতোমধ্যে একটি প্রজন্ম হারিয়েছে। এখন দেশটি আরও একটি প্রজন্ম হারানোর পথে রয়েছে।
জাতিসংঘ ও এর অংশীদার সংস্থাগুলো চলতি বছর ১০ লাখের বেশি সুদানি শিশুকে কোনো না কোনোভাবে আবার শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এই উদ্যোগ যথেষ্ট নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকেই শিশুদের ওপর যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে সতর্ক করে আসছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের পর দেশজুড়ে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জরুরি মানবিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষের। এদের অর্ধেকের বেশি শিশু।
এদিকে, চলতি বছরের শুরুর দিকে সুদান সফরের পর দেশটির সংঘাতের ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক। তিনি গণহত্যা ও গণধর্ষণের বিভিন্ন ঘটনার কথা উল্লেখ করেন।
ভলকার টুর্ক সুদানের পরিস্থিতিকে সাধারণ আরেকটি সংঘাত হিসেবে না দেখে ‘বাস্তব সময়ে ঘটে চলা এক মানবাধিকার বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
পড়ুন: ভারত-চীনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেলেন ট্রাম্প
আর/


