বিজ্ঞাপন

জুয়া খেলায় নিষেধ করায় কলেজ শিক্ষককে কুপিয়ে জখম, হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

লালমনিরহাটে মাদক ও জুয়া খেলায় বাধা দেওয়ায় কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলামের (৩৫) এর ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রোববার (৯ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার মোগলহাট টেম্পু স্ট্যান্ড সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

আরিফুল ইসলাম লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইনস্ট্রাক্টর এবং ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার কর্মকর্তা। তিনি মোগলহাট এলাকার বাসিন্দা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ আগস্ট কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে আরিফুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া এলাকার রহিদুল ইসলাম, হাসান আলী ও মাসুদ আলীসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো পরিচালনা করে আসছিলেন।

এলাকায় জুয়া বন্ধে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি জুয়া খেলা থেকে বিরত থাকতে ওই ব্যক্তিদের নিষেধ করতেন শিক্ষক আরিফুল। জুয়া বন্ধ না করলে পুলিশকে জানানোরও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। এর জেরেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে আরিফুলকে পেটানোর পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।

আহতের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, হামলার নয় দিন পেরিয়ে গেলেও তার ছেলে এখনো জ্ঞান ফেরেনি। প্রথমে তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন বলে জানান তিনি।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আরিফুল ইসলামের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত এবং সঠিক ধারায় মামলা নেওয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।

এদিকে, এ ঘটনায় ছয়জন অনলাইন জুয়া ব্যবসায়ীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আদিতমারী থানায় মামলা করা হয়েছে। তবে মামলা দায়েরের সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তা নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

পড়ুন:হিন্দু ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দিয়েছে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ মিছিল

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন