বিজ্ঞাপন

৮৬৩ খালাসী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ : রেলওয়ের ডিজিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকে নালিশ

বাংলাদেশ রেলওয়ের ৮৬৩ জন খালাসী নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং কথিত আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

গত ৬ আগস্ট দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর এ অভিযোগ দেন বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ও মেসার্স জান্নাত কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধি মো. হুমায়ুন। অভিযোগে ৮৬৩ খালাসী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া অনুসন্ধান করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে ৮৬৩ জন খালাসী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে পোষ্য কোটায় নির্ধারিত ৩১১টি পদের মধ্যে ৩০৯টি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। যোগ্য প্রার্থী না থাকায় দুটি পদ খালি রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত কয়েকজন প্রার্থী আদালতের দ্বারস্থ হলে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।

অভিযোগকারীর দাবি, আদালত যোগ্য আবেদনকারীদের পোষ্য কোটা বজায় রেখে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা দিলেও পরবর্তীতে ওই নির্দেশনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে ৬৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। আদালতের আদেশের সঙ্গে এ নিয়োগের সামঞ্জস্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য গঠিত তিন সদস্যের যাচাই-বাছাই কমিটি ১৩২ জন রিট আবেদনকারীর তথ্য পর্যালোচনা করে মাত্র ২৪ জনের তথ্য সঠিক পায়। কমিটির প্রতিবেদনে ৪২ জনকে ভুয়া রিটকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। এছাড়া ১৪ জন পরীক্ষায় অকৃতকার্য, ছয়জন পরীক্ষায় অংশ নেননি, ১১ জন পোষ্য কোটায় আবেদন করেননি এবং ৩৩ জন কমিটির সামনে উপস্থিত হননি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

এ অবস্থায় যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদনে এতসংখ্যক আবেদনকারীর বিষয়ে নেতিবাচক তথ্য থাকার পরও কীভাবে এবং কোন ভিত্তিতে ৬৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলো—এ প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী। পুরো বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য দুদকের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি’ নামের একটি সংগঠনের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, রেল মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ রেলওয়ের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও সংগঠনটি বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। নিয়োগপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়া, আদালতের আদেশ নিজেদের মতো করে উপস্থাপন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও আনা হয়েছে সংগঠনটির বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া আপিল বিভাগের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নিয়োগপত্র দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এ অবস্থায় নিয়োগ দেওয়ার আইনগত ভিত্তি কী ছিল, তা অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারী মো. হুমায়ুন বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ওঠা অনিয়ম ও অসঙ্গতির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি দুদকে অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের মহাপরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত-১) মুহাম্মদ রেজাউল কবীর বলেন, অভিযোগটি জমা দেওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পৌঁছেনি। অভিযোগ হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদকে দেওয়া অভিযোগে রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন ছাড়াও বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান, রেলওয়ের নতুন রেলওয়ে স্টেশনের ঘোষক দেলোয়ার হোসেন বাপ্পি এবং পূর্বাঞ্চলের আইন কর্মকর্তা মো. আল মাহমুদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ‘সহজ ধারার’ আশ্বাসে ঘুষ, অডিও ফাঁসের পর শৈলকুপার এসআই তরিকুল প্রত্যাহার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন