বিজ্ঞাপন

নারায়ণগঞ্জে অগ্নিদগ্ধ সন্তানের পর না ফেরার দেশে মা বিউটি

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাসের লিকেজ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা বিউটি (২৪) মারা গেছেন। সোমবার (১০ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে একই ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ছেলে মারুফ (৮) মারা যায়। মা-ছেলের মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কুড়িপাড়া চাপাতলি এলাকায় সেলিম মিয়ার টিনশেড বাসায় গ্যাসের লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের তিনজন—মাইদুল (২৪), তার স্ত্রী বিউটি (২৪) এবং তাদের ছেলে মারুফ (৮) গুরুতর দগ্ধ হন।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন। চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানিয়েছিলেন, মাইদুলের শরীরের ৮৫ শতাংশ, বিউটির ৮০ শতাংশ এবং মারুফের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। তিনজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক ছিল।

পরে শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু মারুফের মৃত্যু হয়। এর দুই দিন পর সোমবার ভোরে মারা গেলেন তার মা বিউটি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তার পরিবারের সদস্যরা।

নিহত বিউটি ও তার স্বামী মাইদুল নাটোর জেলার বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে তারা নারায়ণগঞ্জের বন্দরে এসে বসবাস করছিলেন। মাইদুল পেশায় একজন রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় এক বছর ধরে তারা কুড়িপাড়া চাপাতলি এলাকার ওই টিনশেড বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

বর্তমানে মাইদুলও গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মাইদুলের শারীরিক অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, নারায়ণগঞ্জের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরিফিন জানিয়েছিলেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে গ্যাসের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানা যাবে।

পড়ুন:সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে নওগাঁর ১০ জনের মৃত্যু

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন