বিজ্ঞাপন

ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং, বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও

ঘনঘন লোডশেডিং, বিশেষ করে আজানের সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং প্রি-পেইড মিটারের নামে ‘শোষণ’ বন্ধের দাবিতে নীলফামারীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার জেলা সদরের বিক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা শ্রমিক ঐক্য সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন। নীলফামারী বাজারের ট্রাফিক মোড় থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিদ্যুৎ অফিসের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, কৃষিবিদ মাহাবুবুল আলম টুলু, সাবেক ছাত্রনেতা মো. মহিউদ্দিনসহ অনেকে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন অবিলম্বে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া বাতিলের দাবি জানান।

তিনি অভিযোগ করেন, গত ৮-৯ মাস ধরে নীলফামারী শহরের একটি অংশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এমনকি নামাজের সময়, বিশেষ করে মাগরিবের সময়ও নিয়মিত বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে ভিআইপি ফিডার, সার্কিট হাউস ও আমলাদের আবাসিক এলাকাগুলোতে এ ধরনের সমস্যা নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জয়নাল আবেদীন বলেন, আসর কিংবা মাগরিবের আজানের সময় মুয়াজ্জিন ‘আল্লাহু আকবার’ বলার সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে নীলফামারী শহরের একটি অংশের বিভিন্ন মসজিদে আজান দেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, আজানের সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে জানতে চাইলে তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) থেকে লাইন বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। তবে প্রতিদিন আজানের সময় কেন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে গত ৮-৯ মাসে নেসকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেও সমাধান হয়নি বলে জানান জয়নাল আবেদীন। একই সঙ্গে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালসহ তিনটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র যে ফিডারের আওতায় রয়েছে, সেই ফিডার কীভাবে এনএলডিসির আওতায় গেল—এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এ বিষয়ে এনএলডিসির নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, হাসপাতাল ফিডারগুলো এনএলডিসির আওতামুক্ত থাকার কথা থাকলেও নীলফামারীতে এর ব্যতিক্রম ঘটছে। হাসপাতালগুলোকে লোডশেডিংয়ের আওতায় রেখে কিছু এলাকাকে লোডশেডিংমুক্ত করা হয়েছে বলেও সূত্রটি জানায়।

নীলফামারী বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শহরের নিউ ওয়াপদা সাবস্টেশন থেকে সাতটি ফিডার এবং সবুজপাড়া সাবস্টেশন থেকে ভিআইপি ফিডার, সার্কিট হাউস ও আমলাদের আবাসিক এলাকাসহ ছয়টি ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

সূত্রটি আরও জানায়, নিয়ম না থাকলেও ওই এলাকাগুলো ডাবল লাইনের আওতায় রয়েছে।

নিউ ওয়াপদা ফিডারের আওতায় রয়েছে নীলফামারী ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মাতৃসদন (শিশু মঙ্গল)। এ ছাড়া সরকারি এতিমখানা, সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বালিকা ও সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, টিটিসিসহ ১০ থেকে ১২টি সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ এবং শহরের বড় একটি আবাসিক এলাকা এ ফিডারের আওতাভুক্ত।

পড়ুন: রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা অব্যাহত হয়েছে: আইআইএমএম

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন