ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের তালিকা বাতিলের দাবিতে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও এনসিপির নেতাকর্মী এবং নিয়োগবঞ্চিতরা বিক্ষোভ করার সময় কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার কয়েকটি জানালা ও চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকালে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের তালিকা প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন। তালিকা প্রকাশের বিষয়টি জানাজানি হলে বেলা ১টার দিকে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও এনসিপির নেতাকর্মী এবং নিয়োগবঞ্চিতরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে কার্যালয় চত্বর প্রদক্ষিণ করে।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের তালিকা বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার অফিস কক্ষের জানালা ও কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।
পরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। বেলা দেড়টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত তালিকাতেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নাম রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। এ কারণে তারা তালিকা বাতিলের দাবি জানান।
ফুলছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জয়নাল মিয়া বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ করা হয়েছে। তালিকায় ফ্যাসিস্টের নেতাকর্মীদের নামও রয়েছে। তাই ক্ষুব্ধ হয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও নিয়োগবঞ্চিতরা এই ঘটনা ঘটায়।’ তিনি অবিলম্বে তালিকা বাতিলের দাবি জানান।
তবে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, সুপারভাইজার নিয়োগের জন্য এক হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে সেখান থেকে মেধার ভিত্তিতে ৭৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও বলেন, যারা নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তারাই ক্ষুব্ধ হয়ে ভাঙচুর করেছেন।
পড়ুন: রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা অব্যাহত হয়েছে: আইআইএমএম
আর/


