বিজ্ঞাপন

চীনের অর্থনীতিকে বদলে দেওয়ার নায়ক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু মারা গেছেন

চীনের অর্থনীতিকে আমূল বদলে দিয়ে দেশটিকে ‘বিশ্বের কারখানা’ বানানো দূরদর্শী সংস্কারক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজি মারা গেছেন। বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের গণমাধ্যমের খবরে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি লিখেছে, তুলনামূলক কম ধৈর্যের অধিকারী ও ক্ষুরধার বাকপটু এই সংস্কারক ১৯৯০-এর দশকে চীনের রাষ্ট্রীয় শিল্পে আমূল পরিবর্তন আনেন এবং দেশটিকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেন। এর মধ্য দিয়ে দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ত্বরাণ্বিত করার কাজে সহায়তা করেন তিনি।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিনহুয়া বলেছে, বুধবার চীনের স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে বেইজিংয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ঝু। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।

বিশ্বের অন্যান্য কমিউনিস্ট শাসিত দেশের সংস্কারের প্রশংসা করায় যাকে একসময় শারীরিক পরিশ্রমের জন্য প্রত্যন্ত গ্রামে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল, সেই ঝু ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত চীনের শীর্ষ অর্থনৈতিক ‘প্রধানমন্ত্রী’ পদে বসে চোখধাঁধানো পরিবর্তনের ধারা বাস্তবায়ন করেছিলেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষ ও লাভজনক করে তোলার প্রক্রিয়ায় কমিউনিস্ট পার্টির রক্ষণশীল এবং রাষ্ট্রীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন ঝু। এর ফলে লাখ লাখ মানুষ চাকরি হারালেও ২০১০ সালে জাপানকে পেছনে ফেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর চীনকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত করতে সহায়তা করে তার এই পদক্ষেপ।

দেশটির সাবেক নেতা দেং শিয়াওপিংয়ের ১৯৭৯ সালের সংস্কারকে আরও এগিয়ে নিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) চীনের সদস্যপদ লাভের মতো ইতিহাস সৃষ্টিকারী সব পরিবর্তন বাস্তবায়নে ঝুর বিচক্ষণতা ও দৃঢ়তাকে মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখা হয়; যা চীনকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তরে সাহায্য করে।

এসব পরিবর্তন ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে চীনের বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের ওপরে নিয়ে যায়। আর ২০০৭ সালে তা বেড়ে সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছায়।

১৯৯৮ সালে ৬৯ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা ঝু কর্মকর্তাদের ব্যর্থতা ও দুর্নীতির সমালোচনা এবং সরকারের ব্যর্থতার দায় নিজে স্বীকার করে দেশটিতে ব্যাপক জনপ্রিয় ব্যক্তিতে পরিণত হন। কঠোর চাহিদাপূর্ণ কাজের শৈলী দেশটিতে তাকে ‘বস’ এবং ‘ঝু ফেংজি’ বা ‘পাগলা ঝু’ ডাকনাম এনে দিয়েছিল।

চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি নিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্র পিপলস ডেইলি বলেছে, ‘‘১৯৯৮ সালে ঝু বলেছিলেন, আমি এখানে ১০০টি কফিন প্রস্তুত রেখেছি; ৯৯টি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের জন্য এবং একটি আমার নিজের জন্য।’’

দলের শীর্ষ পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিন এবং আলঙ্কারিক আইনসভা ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের চেয়ারম্যান লি পেংয়ের পরই তিন নম্বরে ছিল ঝুর অবস্থান। যদিও নিজস্ব কোনো শক্ত রাজনৈতিক বলয় না থাকায় টেকনোক্র্যাট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে। ঝু প্রায়ই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলতেন, এই কারণে অনেক কর্মকর্তা তার আদেশ উপেক্ষা করতেন।

১৯৯০-এর দশকে উপ-প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন চীনের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে ঝু নিজের পরিচিতি তৈরি করেন। তিনি মূল্য নিয়ন্ত্রণ বিধি কার্যকর এবং লোকসানি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঋণ দেওয়া বন্ধ করে দেন। এ সময় স্থানীয় নেতাদের প্রতিরোধকে উপেক্ষা করেন তিনি। আর এই একই কৌশলে তিনি পরবর্তীতে সংস্কারের গতি নিয়ে রক্ষণশীলদের বিরুদ্ধে লড়াই করেন।

১৯৮০-এর দশকে শুরু হওয়া দীর্ঘ আলোচনার পর ডব্লিউটিওর সদস্যপদ নিশ্চিত করার চীনা প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দেন ঝু। বৈশ্বিক বাণিজ্য সংস্থায় চীনের অন্তর্ভূক্তির এই মর্যাদা মুক্ত বাণিজ্যকে দেশটিতে জাতীয় অঙ্গীকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে; যা পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া বন্ধে স্থানীয় কর্মকর্তাদের বাধ্য করার একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন ঝু।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হামলা, জাহাজ অচল

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন