বিজ্ঞাপন

রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরে ইউক্রেনের ব্যাপক হামলা

রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর নভোরোসিস্কে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এতে রাশিয়ার দুটি বড় শস্য রপ্তানি টার্মিনাল এবং রাশিয়ার সর্বশেষ বড় নৌঘাঁট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতভর চলা এই হামলায় এক শিশুসহ তিনজন নিহত এবং আরও ২৪ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রকেট, জেট ও নৌ-ড্রোন দিয়ে চালানো এই হামলাকে একটি ‘অনন্য অভিযান’ হিসেবে বর্নণা করেছেন। তবে শস্য রপ্তানি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। পরে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, দুটি ফ্রিগেটসহ রাশিয়ার চারটি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার আগ্রাসন চলতে থাকলে দখলদার নৌবহর এবং এর সঙ্গে যুক্ত সব অবকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না।’

রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের বেশিরভাগ জাহাজই এখন নভোরোসিস্কে অবস্থান করছে। এটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বন্দর। ইউক্রেনের হামলার ঝুঁকি বেশি থাকায় ক্রিমিয়া উপদ্বীপের রুশ-অধিকৃত সেভাস্তোপোল থেকে নৌবহর সরিয়ে এখানে নেয়া হয়। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসকে একটি বড় শস্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করেছে যে তাদের একটি টার্মিনালে হামলা হয়েছে। আরেকটি প্রতিষ্ঠান রয়টার্স ও রুশ সংবাদমাধ্যম আরবিকে-কে একই তথ্য জানিয়েছে।

রাশিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয় বুধবার (১২ আগস্ট) জানিয়েছে, তারা পণ্য পরিবহনের প্রবাহ বাল্টিক ও কাস্পিয়ান সাগরের বন্দর এবং স্থলপথে সরিয়ে নেয়ার কাজ করছে। ইউক্রেনের হামলার কথা উল্লেখ না করে মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ‘বর্তমান পরিবহনগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায়’ নিয়ে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এদিকে রাতভর নভোরোসিস্কে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এ সময় রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশে থাকা বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু ভূপাতিত করার চেষ্টা করে। এদিকে বুধবার শহরটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। ড্রোনের ব্যাপক হামলায় বন্দরের আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শহরের পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

ইউক্রেন থেকে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের সর্বশেষ সমুদ্রপথটিও রুশ হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষ্ণসাগরে ওডেসা বন্দর ও পণ্যবাহী জাহাজে বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এর মাধ্যমে ইউক্রেনের সঙ্গে বাণিজ্য করা থেকে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে মস্কো।

জুলাইয়ে ইউক্রেনিয়ান অ্যাগ্রিবিজনেস ক্লাব (ইউসিএবি) জানিয়েছে, দেশটির রপ্তানি ২৩ শতাংশ কমেছে।

এদিকে রাশিয়ার ভূখণ্ডে দূরপাল্লার হামলা চালানোর সক্ষমতা ক্রমেই বাড়িয়েছে ইউক্রেন। সাম্প্রতিক সময়ে কৃষ্ণসাগরের পূর্বাঞ্চলে জাহাজে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার শস্য পরিবহনও ব্যাহত হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় গম রপ্তানিকারক দেশ রাশিয়া। তবে মস্কোভিত্তিক একটি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরে পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় আগস্টে রাশিয়ার গম রপ্তানি গত পাঁচ বছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও বেশি কমে যেতে পারে।

বুধবার রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা অভিযোগ করেন, ইউক্রেন রাশিয়ার শস্য ও কৃষি অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম বাড়ছে এবং শস্যের ঘাটতিও বাড়ছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে জাখারোভা আরও বলেন, রাশিয়া কৃষ্ণসাগরে ‘নৌ চলাচলের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে’ ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী যেসব স্থাপনা ব্যবহার করে, সেগুলোতে হামলা চালিয়ে যাবে। আজভ ও কৃষ্ণসাগরের নিরাপত্তার জন্য তৈরি হওয়া হুমকি ‘পুরোপুরি দূর’ না হওয়া পর্যন্ত এসব হামলা চলবে বলেও জানান তিনি।

বিশ্বের শস্য বাণিজ্যের একটি বড় অংশ রাশিয়া ও ইউক্রেনের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে উত্তর আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার কিছু দেশের ক্রেতারা এই দুই দেশের শস্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেন।

সূত্র বিবিসি

পড়ুন : জিম্বাবুয়ে ফেরিডুবে অন্তত ৪৪ জনের মৃত্যু

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন