বিজ্ঞাপন

হাসানের ৬ উইকেটে ১৯৮ রানেই গুটিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া

ডারউইনে বাংলাদেশি পেসারদের তোপের মুখে দুইশ রানের আগেই অলআউট হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। হাসান মাহমুদ, এবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানেই সব উইকেট হারিয়েছে অজিরা। একাই ৬ উইকেট শিকার করেছেন হাসান মাহমুদ।

বিজ্ঞাপন

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেছেন স্টিভেন স্মিথ। বাংলাদেশের হয়ে হাসান ৫৫ রান খরচায় নিয়েছেন ৬ উইকেট।

ডারউইনের বাউন্সি উইকেটে নতুন বল হাতে শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের চাপে রাখেন তাসকিন ও হাসান। বিশেষ করে হাসানের বোলিং ছিল দুর্দান্ত। দুই দিকে সুইংয়ের পাশাপাশি বাড়তি বাউন্সও আদায় করে নেন তিনি। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে তার বলেই ক্যাচ তুলেছিলেন ট্রাভিস হেড। তবে বল নিরাপদ জায়গায় পড়ায় সে যাত্রায় বেঁচে যান অজি ওপেনার।

প্রথম উইকেটের জন্য বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয় ১২তম ওভার পর্যন্ত। অফ স্টাম্পের বাইরে করা হাসানের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে এজ হন এক ওপেনার। বল গিয়ে জমা পড়ে উইকেটকিপার লিটনের গ্লাভসে। ২৩ রান করে তার বিদায়ে ভাঙে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।

পরের ওভারেই আবার আঘাত হানেন হাসান। এবার তার শিকার ট্রাভিস হেড। ১৪তম ওভারের চতুর্থ বলে গুড লেংথ থেকে ইনসুইং করা বল ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত করে। ২২ রান করে ফেরেন হেড।

১৭তম ওভারে এবাদতের বলে বড় সুযোগ পেয়েও স্টিভেন স্মিথকে ফেরাতে পারেনি বাংলাদেশ। স্লিপে সহজ ক্যাচ দিয়েছিলেন স্মিথ। তৃতীয় স্লিপে থাকা তানজিদ তামিম সেটি ধরে রাখতে পারেননি। তবে পরের ওভারেই মার্নাস ল্যাবুশেনকে ফিরিয়ে প্রথম উইকেটের দেখা পান এবাদত।

১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরে গুড লেংথে বল করেন এবাদত। জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে আউটসাইড এজ হন ল্যাবুশেন। দ্বিতীয় স্লিপে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত এবার আর ভুল করেননি। ২০ বল খেলে মাত্র এক রান করে ফেরেন ল্যাবুশেন।

দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া অস্ট্রেলিয়াকে সামাল দিতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন ক্যামেরুন গ্রিন। তাসকিনের ২২তম ওভারের প্রথম বলেই ডিপ স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে ওভারের শেষ বলে অন সাইডে খেলতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেন গ্রিন। ১৩ বলে ১৩ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর ৪ উইকেটে ৭৪ রান নিয়ে লাঞ্চে যায় অস্ট্রেলিয়া।

লাঞ্চের পর স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি কিছুটা স্বচ্ছন্দে বাংলাদেশি পেসারদের খেলতে থাকেন। দ্রুত রানও তুলছিলেন তারা। এতে বড় জুটি গড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও তা আর হতে দেননি এবাদত।

৩৭তম ওভারের প্রথম বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে ভেতরে ঢুকে যায়। পাঞ্চ করতে গিয়ে ব্যাটের ভেতরের কানায় বল লাগিয়ে স্টাম্পে আঘাত করেন ক্যারি। ১৯ রান করে তার বিদায়ে ভাঙে ৫৫ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি।

এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি বো ওয়েবস্টারও। ৩৯তম ওভারের তৃতীয় বলে ১০ বলে ১২ রান করা ওয়েবস্টারকে সরাসরি বোল্ড করেন তাসকিন। এরপর প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককেও দ্রুত সাজঘরে ফেরায় বাংলাদেশ। দুজনের কেউই দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি। ফলে চা বিরতির আগেই ৮ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

চা বিরতির পর আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করেন স্মিথ। হাসানের খাটো লেংথের বল এগিয়ে এসে পুল করতে গিয়ে টপ এজ হন তিনি। বল উঠে যায় সোজা আকাশে। ৭১ রান করা স্মিথকে ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান।

এরপর নাথান লায়নকেও ফেরান এই পেসার। তাতেই ইনিংসে ৬ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন হাসান মাহমুদ। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস থামে ১৯৮ রানে।

পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৫০ মার্কিন ব্যবসায়ীর বৈঠক

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন