বিজ্ঞাপন

যেভাবে একে একে ৩ জনকে খুন করে বাবুল: লোমহর্ষক বর্ণনা

সিলেটের রায়নগর আবাসিক এলাকায় সংঘটিত আলোচিত ত্রিমুখী হত্যাকাণ্ডে আটক বাবুল মিয়ার দেওয়া লোমহর্ষক বর্ণনা তুলে ধরেছে সিলেট মেট্রোপলিটন (এসএমপি)। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনা করেই ছুরি নিয়ে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে সে এবং ধারাবাহিকভাবে তিনজনকে হত্যা করে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে এসএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আটক হওয়ার পর বাবুল হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঝোপঝাড়ে ভরা একটি খালি প্লটে অভিযান চালিয়ে রক্তমাখা ব্যাগ ও ছুরি উদ্ধার করা হয়। গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যা নেমে আসা এবং বিদ্যুৎ না থাকায় তল্লাশি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল, আজ (শুক্রবার) সকালে শ্রমিক এনে পুনরায় খোঁজাখুঁজি করে এসব আলামত উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, উদ্ধার করা ব্যাগের বিভিন্ন অংশে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। ছুরিটিও ধোয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বাসার ভেতরের আলামত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেসিনে হাত ও ছুরি পরিষ্কার করার চেষ্টা হয়েছিল। তবুও রক্তের চিহ্ন ঘরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি জানান, উদ্ধারকৃত আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। ছুরি ও ব্যাগে থাকা রক্তের নমুনা ঘটনাস্থলের রক্তের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে, যাতে হত্যাকারী ও ভিকটিমের রক্ত আলাদা করে শনাক্ত করা যায়।

ঘটনার বিবরণে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল জানিয়েছে, রংমিস্ত্রীর কাজ করতে গিয়ে গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই সূত্রে সম্পর্ক তৈরি হলেও তা প্রেমের পর্যায়ে গিয়েছিল কি না নিশ্চিত নয়। তবে ‌‘বাদ’ (খারাপ) আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে সে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে এবং পরিকল্পনা করে ছুরি নিয়ে বাসায় আসে।

জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল জানিয়েছে, বাসায় ঢুকে প্রথমে গৃহকর্মী তাহমিনার ওপর হামলা চালায়। তার বুকে অসংখ্যবার ছুরিকাঘাত করা হয়, যা তার চরম রাগের বহিঃপ্রকাশ। পরে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাধা দিতে এলে তার সঙ্গেও ধস্তাধস্তি হয় এবং তাকেও হত্যা করা হয়। এরপর ড্রইংরুমে থাকা গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাকেও হত্যা করে সে।

হত্যাকাণ্ড শেষে ভেতর থেকে দরজা আটকে দিয়ে ব্যালকনি দিয়ে পালিয়ে যায় বাবুল। ব্যালকনির রেলিংয়ে হাত-পায়ের ছাপ এবং নিচে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরে পাশের ঝোপঝাড়ে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি ফেলে দেয় বাবুল।

তদন্তে এখনো অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। কোনো মূল্যবান জিনিস বা নথি নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একটি দলিল সদৃশ কাগজ উদ্ধার করা হলেও সেটি মূল নথি কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবুল মূলত কসাইয়ের কাজের সঙ্গে জড়িত থাকায় ধারালো ও শক্ত ছুরি ব্যবহারে অভ্যস্ত। সে যে ছুরির বর্ণনা দিয়েছিল, উদ্ধারকৃত ছুরির সঙ্গে তার মিল পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।

এদিকে, নিহত প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তারের চার সন্তানই প্রবাসে অবস্থান করছেন। দুই মেয়ে যুক্তরাজ্য থেকে আজ বৃহস্পতিবার দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে এবং ছেলে আগামীকাল শুক্রবার আসবেন। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনরা দেশে পৌঁছালে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হবে।

উল্লেখ্য, বুধবার সকালে রায়নগরের মিতালী এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত বাবুল মিয়াকে আটক করে পুলিশ। স্থানীয়দের সহযোগিতা ও সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করা হয়।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে পুরো নগরজুড়ে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন