বিজ্ঞাপন

অভয়নগর থানার ওসি ও এসআই’র বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ

ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারের পর সেটি মালিকের জিম্মায় না দিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে আপস-মীমাংসার জন্য চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরুজ্জামান ও উপপরিদর্শক (এসআই) বিনয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আল মামুন মঙ্গলবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এরআগে গত ১৬ আগস্ট ভুক্তভোগী আল মামুন যশোর জেলা পুলিশ সুপারের কাছে ওসি ও এসআই’র বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগে আল মামুন দাবি করেন, গত ২৯ জুন অসুস্থ স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ি থেকে আনতে যাওয়ার পথে অভয়নগর থানার চাম এলাকায় ফাঁকা রাস্তায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাঁর পথরোধ করে। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা এবং তাঁর চাচাতো ভাইয়ের ব্যবহৃত এফজেড মোটরসাইকেল (যার নম্বর ঢাকা মেট্রো-১৭-৮৩০৩) ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার পর তিনি অভয়নগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে এসআই বিনয় তদন্ত শুরু করলেও পরে নানা অজুহাতে বিষয়টি দীর্ঘায়িত করা হয়। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলটি পুলিশ হেফাজতে উদ্ধার হলেও সেটি তাঁর জিম্মায় দিতে গড়িমসি করা হয়।

অভিযোগকারী বলেন, থানার পক্ষ থেকে তাঁকে জানানো হয়, যাদের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেছেন তাদের সঙ্গে তাঁর আর্থিক লেনদেন রয়েছে এবং তাদের সঙ্গে মীমাংসা করেই মোটরসাইকেল নিতে হবে। তবে আল মামুনের দাবি, অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেন নেই। স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে বসলে তারা তাঁর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আল মামুনের অভিযোগ, বিষয়টি থানার ওসি নূরুজ্জামান ও এসআই বিনয়কে জানালেও তাঁকে অভিযুক্তদের সঙ্গে মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁকে থানায় ডেকে নিয়ে ওসির কক্ষে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো ও অপমান করা হয়। এমনকি অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তাঁকে মারধর ও বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।

অভিযোগে আরও বলা হয়, নিরাপত্তা চাইলে ওসি নূরুজ্জামান তাঁকে বলেন, ‘আমি নিজেই নিরাপত্তাহীন, আপনাকে কোনো নিরাপত্তা দিতে পারব না।’ পরে আল মামুন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলামের কাছে বিষয়টি জানান। তাঁর আশ্বাসে থানায় গেলেও মোটরসাইকেলটি বুঝিয়ে না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

আল মামুন বলেন, গত ১২ আগস্ট এসআই বিনয় তাঁকে থানায় ডেকে মোটরসাইকেল বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। পরে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে মীমাংসার কথা জানানো হয়। তিনি মীমাংসায় রাজি না হওয়ায় তাঁকে বিভিন্ন মামলায় হয়রানি করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সবশেষে আল মামুন দাবি করেন, তাঁর অভিযোগের অভিযুক্তদের কাছেই মোটরসাইকেলটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে অভিযুক্ত পক্ষ তাঁকে উদ্দেশ করে বলে, আদালত থেকে পারলে মোটরসাইকেল উদ্ধার করে নিতে। বিষয়টি নিয়ে ওসির কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নন বলে জানান এবং আগে মীমাংসা করে আসার কথা বলেন এমন অভিযোগও করেছেন আল মামুন।

এ ঘটনায় তিনি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে ওসি নূরুজ্জামান ও এসআই বিনয়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভয়নগর থানার ওসি ও একজন এসআই বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম জানান অভিযুক্তের কাছে মোটরসাইকেল দেওয়া আইন সম্মত হয়নি তবে তিনি মিউচুয়ালের সার্থে মোটরসাইকেল দিয়েছে বলে জানান ওসি জানিয়েছেন।

পড়ুন : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন