গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ‘সাবেক এমপির আত্মীয়তার প্রভাব, ৮ বছরেও জমি ফেরত পাননি প্রবাসী’ শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মো. সিরাজ। এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি প্রকাশিত সংবাদকে অসত্য, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও একপাক্ষিক বলে দাবি করেছেন।
সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে যে- “চট্টগ্রামের পটিয়ায় সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ হাসানের মালিকানাধীন ৬ শতক জমি প্রায় আট বছর ধরে দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ সিরাজের বিরুদ্ধে। জমিতে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে তা ভাড়া দিয়ে ভোগদখল করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন জমির মালিক। মোহাম্মদ হাসান বলেন, “আমি প্রবাসে থাকার সুযোগে আমাকে না জানিয়ে জমিতে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে তা ভাড়া দেওয়া হয়েছে। গত আট বছর ধরে আমার পরিবারের কাউকে জমির কাছে যেতে দেখা হয়নি। আরো উল্লেখ করা হয় দীর্ঘদিন ধরে মোঃ সিরাজের সঙ্গে বিষয়টি মীমাংসায় চেষ্টা করলেও তিনি বৈঠকে বসতে রাজি হননি। গত বৃহস্পতিবার জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে স্থানীয় লোকজন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে গেলে সিরাজের লোকজন তাদের উপর হামলার চেষ্টা করেন ……।
প্রতিবাদলিপিতে মো. সিরাজ বলেন, প্রকাশিত সংবাদে চট্টগ্রামের পটিয়ায় সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ হাসানের মালিকানাধীন ছয় শতক জমি প্রায় আট বছর ধরে দখলে রাখার অভিযোগ করা হয়েছে। জমিতে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া এবং জমির মালিকের পরিবারের সদস্যদের সেখানে যেতে না দেওয়ার অভিযোগও সংবাদে প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তিনি বৈঠকে রাজি হননি এবং ঘটনাস্থলে গেলে তার লোকজন হামলার চেষ্টা করেন—এমন তথ্যও সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবাদলিপিতে মো. সিরাজ দাবি করেন, সংবাদে প্রকৃত ঘটনা উপস্থাপন করা হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জমির মালিক মো. হাসান ও তিনি একই এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিনের পরিচয়ের সূত্রে মো. হাসানের স্ত্রী পারভীন আকতার তার স্বামীর প্রবাসজীবনের দুর্দশা ও আর্থিক সংকটের কথা জানালে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করেন।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, পারভীন আকতার তার স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে জমিটি বিক্রয়ের প্রস্তাব দেন। জমিটি মো. হাসানের মালিকানাধীন হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে রেজিস্ট্রি করা সম্ভব না হওয়ায় ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে পারভীন আকতার তার স্বামী মো. হাসানের পক্ষে জমি হস্তান্তরের চুক্তিপত্র করেন। ওই চুক্তিপত্রে তার স্বামীর পক্ষে দলিল সম্পাদনের ক্ষমতাপত্র তার কাছে অর্পিত থাকার কথাও উল্লেখ করা হয় বলে প্রতিবাদলিপিতে দাবি করা হয়েছে।
চুক্তির পর তাকে জমির দখল দেওয়া হয় এবং বাউন্ডারি দেয়াল ও কাঁচাঘর নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মো. হাসান দেশে ফিরলে দ্রুত রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে মো. হাসান একাধিকবার দেশে ফিরলেও বিষয়টি তার কাছ থেকে গোপন করা হয় বলে প্রতিবাদলিপিতে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, জমিটির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ লাখ টাকা দরদাম নির্ধারণের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল। জমির মালিক মো. হাসান প্রবাসে থাকায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যে জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার সুবিধার্থে পারভীন আকতারের বাবা আবদুল হককে অ্যাটর্নি নিয়োগ করেন বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মো. সিরাজের অভিযোগ, পারভীন আকতার, তার স্বামী মো. হাসান এবং আমমোক্তার গ্রহীতা আবদুল হক অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানির উদ্দেশ্যে তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সামাজিক মর্যাদা ও সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছেন।
প্রতিবাদলিপিতে আরও দাবি করা হয়, প্রকাশিত সংবাদে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক রং দিয়ে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর ফলে তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনো ধরনের যথাযথ যাচাই-বাছাই না করে এবং তার বক্তব্য গ্রহণ না করেই একপাক্ষিকভাবে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এ অবস্থায় প্রকাশিত সংবাদের যথাযথ সত্যতা যাচাই করে প্রতিবাদ বা সংশোধনী এবং তার প্রকৃত বক্তব্য গুরুত্বসহকারে প্রকাশের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন মো. সিরাজ।
প্রতিবেদকের বক্তব্য:
গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নাগরিক টিভির অনলাইন সংস্করণে “সাবেক এমপির আত্মীয়তার প্রভাব, ৮ বছরেও জমি ফেরত পাননি প্রবাসী” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সরেজমিন অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং জমির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইয়ের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি কোনো পক্ষকে দোষী সাব্যস্ত করার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়নি। এ কারণে প্রতিবেদনে শুরু থেকেই “দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে”, “অভিযোগ করেছেন” এবং “দাবি”—এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।
সংবাদ সংগ্রহের সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে জমির অবস্থান ও সেখানে থাকা স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। এ সময় ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া হয়। পাশাপাশি জমির সাব-কবলা দলিল, নামজারি খতিয়ান এবং সর্বশেষ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রশিদসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়।
যাচাই করা নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ১৯ আগস্ট রেজিস্ট্রিকৃত সাফ বিক্রয় কবলা দলিলের মাধ্যমে মোহাম্মদ হাসান জমিটি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তাঁর নামে নামজারি হয় এবং ২০২৬ সালের ২৬ জুন তাঁর নামে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা হয়। এসব নথির তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনে জমির মালিকানা-সংক্রান্ত বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য:
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. সিরাজের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে তাঁকে পাওয়া না গেলেও পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তাঁর বক্তব্য গ্রহণ করা হয় এবং তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি প্রতিবেদককে বলেন, “জমির মালিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছি। ওই ৩ গন্ডা জমির দাম ১৫ লাখ টাকা বলেছি। তারা রাজি হয়নি।”
অতএব, “আমার পক্ষে বক্তব্য না নিয়েই একতরফাভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে”—প্রতিবাদলিপিতে করা এই অভিযোগ সঠিক নয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহের সময় মো. সিরাজকে পাওয়া না গেলেও তাঁর কেয়ারটেকার হিসেবে পরিচয় দেওয়া মো. ফোরকানের কাছে জমির মালিকানা বা দখলের বৈধতার স্বপক্ষে কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। বরং সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এবং ফরিদ নামে আরেক ব্যক্তি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং হামলার চেষ্টা করেন। এটিও প্রতিবেদকের সরেজমিন অভিজ্ঞতার অংশ।
পারভীন আক্তারকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেওয়ার দাবি:
প্রতিবাদলিপিতে মো. সিরাজ দাবি করেছেন, ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে পারভীন আক্তারের সঙ্গে জমি হস্তান্তরের চুক্তি করা হয়েছে এবং তাঁকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেওয়ার পাশাপাশি জমির দখলও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে সংবাদ প্রকাশের সময় এসব দাবি বা সংশ্লিষ্ট কোনো দলিল প্রতিবেদকের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি। বরং প্রতিবাদলিপির মাধ্যমেই বিষয়গুলো প্রথমবারের মতো প্রতিবেদকের নজরে আসে।
পারভীন আক্তারকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রদান এবং তাঁর কাছে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি সত্য হলে সংশ্লিষ্ট পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল উপস্থাপন করলেই বিষয়টির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। বর্তমানে এ দাবির পক্ষে প্রতিবেদকের কাছে কোনো যাচাইযোগ্য দলিল উপস্থাপন করা হয়নি।
একইভাবে, প্রতিবাদলিপিতে পারভীন আক্তারের স্বামী মোহাম্মদ হাসান গত কয়েক বছরে গোপনে একাধিকবার বাংলাদেশে এসেছেন বলে যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও যাচাইযোগ্য তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। প্রকৃতপক্ষে, মোহাম্মদ হাসান গত ৯ বছরে একবারও বাংলাদেশে আসেননি—এমন তথ্যের পক্ষে তাঁর পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন রেকর্ড যাচাই করা যেতে পারে। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
প্রতিবাদলিপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্র, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, ইমিগ্রেশন রেকর্ড বা অন্যান্য প্রামাণ্য নথি উপস্থাপন করা হলে সেগুলো যাচাই করে সত্যতা পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী প্রতিবেদনে তা যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দার বক্তব্য প্রসঙ্গে:
প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিমের বক্তব্যও অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে জমি দখল বা কম দামে জমি কেনার অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায়নি—এ বিষয়টিও প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে।
ফলে আবদুল করিমের বক্তব্যকে প্রতিবেদকের নিজস্ব বক্তব্য, অনুমান কিংবা প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য হিসেবেই প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য:
প্রতিবেদনে প্রতিবেদকের নিজস্ব কোনো মন্তব্য, অনুমান বা মনগড়া তথ্য সংযোজন করা হয়নি। প্রকাশিত সংবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, সাক্ষাৎকার এবং যাচাই করা প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
প্রতিবাদলিপিতে সংবাদটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর বলা হলেও প্রকাশিত প্রতিবেদনের মূল বিষয় ছিল একটি নির্দিষ্ট জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য। কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য ছিল না।
প্রতিবেদক হিসেবে আমার অবস্থান স্পষ্ট—প্রকাশিত সংবাদটি সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং যাচাই করা নথিপত্রের ভিত্তিতেই প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে প্রতিবাদলিপির সঙ্গে নতুন কোনো প্রামাণ্য নথি বা তথ্য উপস্থাপন করা হলে এবং যাচাইয়ে তা সত্য প্রমাণিত হলে সাংবাদিকতার নীতি অনুসারে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন বা ব্যাখ্যাসহ তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করতে কোনো আপত্তি নেই।
সর্বোপরি, প্রকাশিত প্রতিবেদনটি কোনো ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা, ব্যক্তিগত বিরোধ সৃষ্টি করা কিংবা কোনো পক্ষকে হেয় করার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগের প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং যাচাই করা নথির ভিত্তিতে প্রকৃত বিষয়টি পাঠকের সামনে তুলে ধরাই ছিল প্রতিবেদকের একমাত্র উদ্দেশ্য।


