বিজ্ঞাপন

সৈয়দপুরে অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকে আটকে রেখে জমি লিখে নিয়েছে ছেলে-নাতি

শতবর্ষী অসুস্থ বৃদ্ধকে আটকে রেখে এবং সকল ওয়ারিশকে বঞ্চিত করে এককভাবে ৭২ শতক জমি লিখে নিয়েছেন বড় ছেলে ও নাতি। বাকি আরও জমি লিখে নিয়ে বৃদ্ধকে মেরে ফেলতে পারে এই আশঙ্কায় তাঁকে উদ্ধার করতে গেলে হেনস্তা করাসহ মিথ্যা মামলা দিয়েছেন অন্য ৩ ভাইয়ের বিরুদ্ধে। সেই সাথে অপরাধ ধামাচাপা দিতে অপপ্রচার চালানোসহ নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

আটকাবস্থা থেকে মুক্তি পেয়ে অশীতিপর ওই বৃদ্ধ পুরো ঘটনা তুলে ধরতে বুধবার (২০ আগস্ট) বিকেলে শহর সংলগ্ন বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের কয়া মিস্ত্রিপাড়া হিন্দুপাড়ায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এতে তিনি বড় ছেলে ও নাতির প্রতারণা ও অপকর্মের বিচার এবং জোর করে করা দলিল বাতিলের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বৃদ্ধের ৩ ছেলে ২ মেয়েসহ জামাই নাতি নাতনি ভাই আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী, জনপ্রতিনিধি ও গন্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় মেজো ছেলে সুশান্ত কুমার রায় বলেন, আমরা চার ভাই। এই পৈত্রিক ভিটায় আমরা ৩ ভাই বসবাস করি। আমার বাবা উমেশ চন্দ্র রায় (১১৯) খুবই অসুস্থ এবং স্বাভাবিক জ্ঞান বোধহীন ও কানে কম শোনেন। তিনি দীর্ঘদিন থেকে আমার বাড়িতেই থাকছেন। তাঁর সব কিছুই আমি করে আসছি। আমার মা এখানেই মারা গেছেন।

বড় ভাই বিষ্ণু চন্দ্র রায় ১৯৮৬ সালে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় চাকরি পাওয়ার পর থেকে পরিবার নিয়ে পৌরসভার ১৫ নং ওয়ার্ডের মিস্ত্রিপাড়া বদ্যুদল এলাকায় খানকায়ে কলিমিয়ার সামনে রেলওয়ের জায়গায় বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছেন। মাঝে মধ্যে গিয়ে বাবাকে দেখে আসেন। কিন্তু কখনোই তার ভরণ পোষণ দেওয়া বা নিজের বাড়িতে নিয়ে যাননি বা রাখেননি।

হঠাৎ গত ১৫ দিন আগে সেই বড় ভাই ও তার ছেলে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়কের অফিসে কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর মনোরঞ্জন কুমার রায় আনন্দ অনেকটা জোর করেই বাবাকে তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আসেন। ছেলে ও নাতি হিসেবে তাদেরও অধিকার আছে বিধায় আমরা কেউ বাধা দেয়নি বা কোন দ্বিধাও করিনি। অথচ এই কয়েক দিন আমরা বড় ভাইয়ের বাড়িতে গেলেও বাবার সাথে দেখা করতে দেয়া হয়নি।

এর মধ্যেই আমরা জানতে পারি বড় ভাই কমিশন করে তার বাড়িতে সাব রেজিস্ট্রারকে এনে ৭২ শতক জমি আমাদের বাবার কাছে তার ছেলে মনোরঞ্জন কুমার রায় আনন্দের নামে লিখে নিয়েছেন। বিষয়টা নিশ্চিত হওয়ার পর আমাদের আশঙ্কা হয় যে, যারা এভাবে বাবাকে আটকে রেখে সবাইকে বঞ্চিত করে জমি লিখে নিতে পারে তারা বাকি সব সম্পত্তিও নিতে এবং বাবাকে মেরে ফেলতেও পারে।

তাই গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আমরা ৩ ভাই পরিবার পরিজন নিয়ে বড় ভাইয়ের বাড়িতে যাই। কিন্তু তারা বাড়ির দরজা বন্ধ করে রাখে। বেলা ১২ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে কান্নাকাটি ও বার বার অনুরোধ করলেও তারা দরজা খোলেনি এবং বাবার সাথে দেখা করতে দেয়নি। ফলে আমরা আমাদের আশঙ্কার কথা জানিয়ে ও এমন অন্যায়ের বিচার দাবী করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

আশেপাশের লোকজন সমবেত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় নেতৃস্থানীয়রাও ছুটে আসেন। তারপরও খোলা হয়নি বন্ধ দরজা। ফলে সূধীজনদের পরামর্শে সেদিন ফিরে আসি এবং পরদিন সকল আত্মীয় স্বজনকে নিয়ে আবার যাই। এভাবে সবার উপস্থিতি দেখে তারা দরজা খোলে এবং আমরা কোন উচ্চবাচ্চ না করে বাবাকে নিয়ে আসি।

অথচ প্রকাশ্য দিনের বেলায় এলাকার লোকজনের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে ঘটা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডাকাতি তথা হামলা ভাঙ্চুর লুটপাট ও শারীরিকভাবে জখমের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন তারা।
এমনকি সংবাদ সম্মেলন করেও প্রচারণা চালানো হয়েছে। তারা বলে বেড়াচ্ছেন জমি ৩৯ লাখ টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছে।

তাহলে এতো লুকোচুরি কেন এবং অসুস্থ বাবাকে আটকে রাখা হলো কেন? এমন বড় ভাই যেন কারো না হয়। আমরা দলিল বাতিলের জন্য নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিবো। সেই সাথে প্রশাসন ও সমাজের কাছে এধরণের কর্মকাণ্ডের যথাযথ বিচার দাবী করছি।

বৃদ্ধের মেয়ে গীতা রানী রায় বলেন, আমার বড় ভাই এভাবে কৌশলে জমি লিখে নিয়ে চরম অন্যায় করেছেন। আমরা এর সঠিক সমাধান চাই। এমনিতে পৈত্রিক ভিটায় তার অংশে বাড়ি করতে গিয়ে ইচ্ছে করে ঝামেলার সৃষ্টি করে রেখেছে। তার উপর এমন করে সব সম্পত্তি একাই কব্জা করার অশুভ কাজ কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায়না। দলিল বাতিল করে সবাইকে সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

বৃদ্ধের নাতনি (মেয়ের মেয়ে) পপি রানী রায় বলেন, এযুগে এসেও মানুষ এমন জঘন্য কাজ করতে পারে ভাবতেই লজ্জা পায়। তাও আবার আমার বড় মামাই এই ধরনের কাজ করেছে। অথচ তার কোন অভাব নেই। তিনি রেলওয়েতে চাকরি করে অবসর নিয়েছেন। ছেলে ও মেয়েও রেলওয়ে কারখানায় চাকরি করে। রেলওয়ের জায়গায় বিশাল বাড়ি। তারপরও এতো লোভ করা উচিত হয়নি। আমরা এর সমাধান চাই।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বৃদ্ধ উমেশ চন্দ্র রায় বলেন, আমি জমি লিখে দেয়নি। বিষ্ণু ও আনন্দ মিথ্যে বলে টিপসই নিয়েছে। আমি এই দলিল বাতিল চাই। আমার সন্তানদের বঞ্চিত করে যারা এমন প্রতারণা করেছে তাদের বিচার চাই। তিনি আরও বলেন, আমি সুশান্তের কাছেই ভালো আছি। ওরা আমাকে অনেক যত্ন করে। এখানে আমার কোন সমস্যা নাই। সব সন্তান সমান ভাবে সম্পত্তি পাবে এটা নিশ্চিত করতে চাই।

বৃদ্ধের ভাই জগদীশ চন্দ্র রায় বলেন, বিষ্ণু তার ছেলে আনন্দের নামে বিভিন্ন দাগে মোট ৭২ শতক জমি লিখে নিয়েছেন। যার মধ্যে ৪ শতক ভিটেমাটি, ২ শতক বাঁশঝাড় এবং ৬৬ শতক দোলা জমি। এটা জানতে পেরে অবাক হয়েছি। কি করে সে এমন কাজ করতে পারলো? আবার এর প্রতিবাদ করায় এবং আটক অসুস্থ বাবাকে উদ্ধার করায় মিথ্যা মামলা দিয়েছে। ভাবা যায় কতটা অমানুষ হয়ে গেছে! এই অপকর্মের বিচার হওয়ার দরকার। যাতে আর কেউ কারো অধিকার কেড়ে নিতে না পারে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ২৫৫ ভোটে ফখরুল রাষ্ট্রপতি আনন্দের জোয়ারে ভাসছে ঠাকুরগাঁও

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন