বিজ্ঞাপন

কাস্টমারের স্ত্রীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, প্রতিবাদ করায় কফিশপে তাণ্ডব!

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে এক কাস্টমারের স্ত্রীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদ করায় উপজেলা ছাত্রদল নেতার মালিকানাধীন কফিশপে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে খোদ উপজেলা বিএনপি’র শীর্ষ এক নেতা ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কফিশপের পরিচালক শাকিল মিয়া (২৮) বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে কফিশপ ভাঙচুর এবং ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ তিন লাখ ৩০ হাজার সাত টাকা লুটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এরআগে, গতকাল (বুধবার) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের ছোট পাইকুরা গ্রামের ‘বাগান বিলাস কফি হাউসে’ এমন ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে কফিশপের পাশের গ্রামের বাসিন্দা অন্তর মিয়া তার স্ত্রীকে নিয়ে ‘বাগান বিলাস কফি হাউসে’ সময় কাটাতে আসেন। এ সময় উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাজারুল ইসলাম সংগ্রামের ছেলে নাঈম মিয়া ওই নারীর উদ্দেশে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদ করলে অন্তর মিয়ার সঙ্গে নাঈমের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির সৃষ্টি হয়। তখন কফিশপের পরিচালক শাকিল মিয়া পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

কিছুক্ষণ পরেই নাঈম তার বাবা বিএনপি নেতা মাজারুল ইসলাম সংগ্রাম, চাচা মাসুদ, মুখলেসসহ আরও ২০-২৫ জনের একটি দল নিয়ে কফিশপে সশস্ত্র অবস্থায় ফিরে আসেন। তারা অন্তর মিয়াকে না পেয়ে পরিচালক শাকিল মিয়ার ওপর চড়াও হন।

শাকিল মিয়াকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে টেনে-হিঁচড়ে দূরে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। হামলাকারীরা কফিশপের লাইট, চেয়ার, দোলনাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ও মূল্যবান সাজসজ্জার সামগ্রী ব্যাপক ভাঙচুর করে। ক্যাশ কাউন্টারে রাখা তিন লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং ওই দিনের বিক্রির ১৪ হাজার সাত টাকাসহ তিন লাখ ৩০ হাজার সাতশো টাকা লুট করা হয়।

পরে শাকিলের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয়রা শাকিল মিয়াকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে মূল আসামি করা হয়েছে উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাজারুল ইসলাম সংগ্রামকে (৫২)।

এছাড়া এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন- মামুন মিয়া (৩৮), মোবারক (৪৫), মুখলেস (৩৫), মাসুদ মিয়া (মোহনগঞ্জ পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং পৌর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক), নাঈম মিয়া (২২), সোহেল মিয়া (৪৬) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জন।

প্রতিষ্ঠানের মালিক ও উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নোমান আহমেদ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি জানান, “আমার প্রতিষ্ঠানে আগত এক কাস্টমারের স্ত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারকে কেন্দ্র করে সংগ্রাম ভাইয়ের ছেলে নাঈম পরে দলবল নিয়ে এসে ম্যানেজারকে মারধর করে, প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। আমি এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার ও আইনের আশ্রয় চেয়েছি।”

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মাজারুল ইসলাম সংগ্রামের মুঠোফোনে গণমাধ্যমকর্মীরা একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে তার ছোট ভাই ও মামলার অন্যতম আসামি মাসুদ মিয়া লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

“প্রতিষ্ঠানটি আগে ভালোভাবেই চলত। বর্তমান মালিক দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিবেশ বদলে গেছে। ঘটনার দিন নাঈমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের মিথ্যা অভিযোগ তুলে মারধর করা হয়। পরে নাঈম ফোন করে বিষয়টি জানালে আমরা কফিশপে যাই। সেখানে এক কর্মীর বাজে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কিছুটা হাতাহাতি হয়। তবে অভিযোগে অন্য একটি বানোয়াট ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।”- মাসুদ মিয়া।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন জানিয়েছেন, তারা কফিশপে হামলা ও লুটপাটের লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, একই দলের দুই নেতার মধ্যে এমন সংঘাতে স্থানীয় রাজনীতিতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি গণমাধ্যমকে সেলিম কার্ণায়েন বলেন, “ঘটনাটি আমরা শুনেছি। উভয়পক্ষই আইনিভাবে মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে বলে জেনেছি। কারও সঙ্গে বিস্তারিত কথা হয়নি। তবে তারা আমাদের কাছে এলে আমরা দলীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করব।”

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ২৫৫ ভোটে ফখরুল রাষ্ট্রপতি আনন্দের জোয়ারে ভাসছে ঠাকুরগাঁও

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন