বিজ্ঞাপন

সাক্ষী দিতে থানায় ডেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

মাদারীপুর সদর মডেল থানায় একটি ইভটিজিংয়ের অভিযোগের ঘটনায় সাক্ষী হিসেবে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, থানায় নেওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে ভয় দেখানো হয়। এমনকি নারী নির্যাতন মামলায় আদালতে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করা হয়। পরে ৮ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাঁদের একজনকে রাতের দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের ঝাউদি গ্রামের লৎফর মুন্সিকে গত ১৯ আগস্ট সকালে ফোন করে থানায় আসতে বলা হয়। ফোনে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ এসেছে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কয়েকজন সাক্ষী নিয়ে থানায় আসতে হবে।

এরপর লৎফর মুন্সি বারেক, সাদ্দাম ও সোহাগ নামে তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে সন্ধ্যার দিকে সদর মডেল থানায় যান। তাঁদের অভিযোগ, থানায় পৌঁছানোর পর এসআই মালমগীর হোসেন তাঁদের আটক করেন। কিছুক্ষণ পর বারেক ও সাদ্দামকে ছেড়ে দেওয়া হলেও সোহাগকে আটকে রাখা হয়।

সোহাগের অভিযোগ, তাঁকে ভয় দেখিয়ে বলা হয়, ২০ হাজার টাকা না দিলে লৎফর মুন্সির সঙ্গে তাঁকেও নারী নির্যাতনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। পরে দর-কষাকষির একপর্যায়ে ৮ হাজার টাকা দেওয়ার পর রাত ১২টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সোহাগের ভাই নাহিদ বলেন, তাঁর ভাই কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। ইভটিজিংয়ের একটি অভিযোগের ঘটনায় সাক্ষী হিসেবে তাঁকে থানায় ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে নেওয়ার পর তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকার কথা বলে ভয় দেখানো হয়।

নাহিদের ভাষ্য, “আমার ভাইয়ের নামে কোনো অভিযোগ থাকলে সেটি আমাদের জানানো যেত। কিন্তু থানায় ডেকে এনে কী মামলা হয়েছে, তা স্পষ্ট না করে আদালতে চালান করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে। আমাদের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এই টাকা আমরা অনেক কষ্টে, সুদের ওপর ধার করে জোগাড় করেছি। আমরা নিরপরাধ। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা বের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, একই ঘটনায় লৎফর মুন্সিকে আটক করে নারী নির্যাতনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। ওই মামলায় সাক্ষী হিসেবে সোহাগসহ কয়েকজনকে থানায় ডাকা হয়েছিল বলে তাঁরা জানান। তবে সাক্ষী হিসেবে থানায় যাওয়ার পর একজনকে ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী সোহাগে ছোট ভাই নাহিদ জানান, ঘটনা যাতে আমরা কোন প্রতিবাদ না করতে পারি সেজন্য থানার সামনে বসে ভিডিও বক্তব্য রেখেছে। এবং ভিডিও বক্তব্য না দিলে আটক করে রাখার হুমকি দিয়েছে। পরে আমার ভাই ভয়ে ভিডিও বক্তব্য দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা বা অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সাক্ষী হিসেবে থানায় ডেকে এনে মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে তা পুলিশের দায়িত্ব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল। তাই ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই মালমগীর হোসেন বলেন, “১৩ আগস্ট তাঁদের বিরুদ্ধে একটি ইভটিজিংয়ের অভিযোগ আসে। ওই ঘটনায় তাঁদের আটক করা হয়েছিল।”

তবে আটকের পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া এবং টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পড়ুন : রাজধানীতে যানজট নিয়ন্ত্রণে এবার যুক্ত হচ্ছে ‘ড্রোন সার্ভিলেন্স’

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন