বিজ্ঞাপন

ইভটিজিং বনাম ছিনতাই: মোহনগঞ্জে পাল্টাপাল্টি মামলায় ধোঁয়াশা

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় একটি কফি হাউজে সংঘটিত সামান্য হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি এক রাতের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোহনগঞ্জ থানায় একই দিন ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পরস্পরবিরোধী দুটি লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দাখিল করা হয়েছে।

একপক্ষ ইভটিজিং, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ তুললেও, অন্য পক্ষ দাবি করছে অসামাজিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করায় তাদের পাঁচ লাখ টাকা ছিনতাই করা হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, উভয় পক্ষের এজাহারেই বর্ণনার প্রায় ৯৫ শতাংশই মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, তারা দুটি অভিযোগই পেয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহনগঞ্জ থানাধীন ছোট পাইকুড়া এলাকার ‘বাগান বিলাস কফি হাউজ’ (বা ফুড কর্নার) কেন্দ্রিক এ বিরোধের সূত্রপাত। কফি হাউজটির মালিক মোহনগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের নেতা শাকিল মিয়া। গত ১৯ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে সেখানে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই দ্বন্দ্বের সূচনা হয়, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক রূপ নেয়।

গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলের দিকে মোহনগঞ্জ থানায় প্রথম অভিযোগটি দায়ের করেন কফি হাউজের মালিক ও ছাত্রদল নেতা শাকিল মিয়া (২৮)। তার এজাহারে প্রধান আসামি করা হয়েছে মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাজারুল ইসলাম সংগ্রামকে (৫২)। এছাড়া মামুন মিয়া (৩৮), মোবারক (৪৫), নাঈম মিয়া (২২) সহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বাদীর অভিযোগ, ১৯ আগস্ট আনুমানিক রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার কফি হাউজে আসা এক দর্শনার্থীর স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে মাজারুল ইসলামের ছেলে নাঈম মিয়া অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদ করলে তর্কবিতর্ক ও হট্টগোল বাধে। শাকিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে উভয় পক্ষকে বের করে দেন। পরবর্তীতে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অতর্কিত হামলা চালায়। শাকিলের দাবি, হামলাকারীরা ক্যাশ কাউন্টার থেকে তিন লাখ ৩০ হাজার সাতশো টাকা লুট করে নিয়ে যায় এবং কফি হাউজে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় দুই লাখ চার হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়।

প্রথম অভিযোগের কয়েক ঘণ্টা পর, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন আল মামুন (৩৬) নামের এক ধান ব্যবসায়ী। তিনি বিএনপি নেতা মাজারুল ইসলাম সংগ্রামের ভাই এবং প্রথম অভিযোগকারীর এজাহারভুক্ত আসামি নাঈম মিয়ার চাচা। এই এজাহারে ছাত্রদল নেতা শাকিল মিয়াকে ২ নম্বর, রোমান মিয়াকে ১ নম্বর ও মমিন মিয়াকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

আল মামুনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি দাবি করেন, ছোট পাইকুড়া এলাকার ওই কফি ক্লাবটি দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। তারা এর প্রতিবাদ করায় আসামিরা আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিল। ১৯ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মামুনের ভাতিজা নাঈম ও খালাতো ভাই আবু দারদা ধানের ব্যাপারীদের পাওনা নগদ পাঁচ লাখ টাকা দিতে মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার পথে কফি ক্লাবের সামনে আসামিদের আক্রমণের শিকার হন। আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় এবং নাঈমকে জাপটে ধরে তার কাছে থাকা নগদ পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। ঘটনা নিয়ে মামলা করলে গুম করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

একই ঘটনা, একই তারিখ, কিন্তু বিবরণ সম্পূর্ণ বিপরীত- এমন পরিস্থিতিতে জনমনে যখন ধোঁয়াশা, তখন পুলিশ পুরো ঘটনাটিকেই অতিরঞ্জিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

তবে প্রাথমিক তদন্তের পর ওসি স্পষ্ট করেন, “এজাহারগুলোতে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে- ছিনতাই, ইভটিজিং, ব্যাপক লুটপাট বা মারামারি- তার ৯৫ শতাংশই মিথ্যা। আমরা তদন্ত করে দেখেছি, এ ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী নেই। মূলত ছোটদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল।”

তিনি আরও জানান, উভয় পক্ষই ঘটনাটিকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে নিজেদের সুবিধামতো বড় করে থানায় এজাহার দিয়েছে। বর্তমানে পুলিশ পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছে। তদন্তে যতটুকু সত্যতা পাওয়া যাবে, কেবল তার ভিত্তিতেই যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : মিরসরাইয়ে বিএসআরএমের চালান থেকে চুরি হওয়া ১২ টন রড উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন