বিজ্ঞাপন

ম্যাকাইতে কী নতুন ইতিহাস লিখে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারবে বাংলাদেশ?

ইতিহাস লিখে ফেলেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট দল। কিন্তু এখানেই কি শেষ! পাঁচ দিন ভালো খেলার লক্ষ্য নিয়ে ডারউইনে শুরু। প্রথম দিনেই প্রত্যাশার পারদ উঁচুতে তুলে তা আর নামতে দেয়নি বাংলাদেশ। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১১টি সেশন একইভাবে আধিপত্য ধরে রেখে ঐতিহাসিক জয় পায় তারা।

নাজমুল হোসেন শান্তর দল আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় আবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামছে। এই সিরিজ শুরুর আগের হিসাব মাথায় রাখলে, এই ম্যাচে তাদের হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ছক কষার কথা ছিল। উল্টো অস্ট্রেলিয়াকে সেই চিন্তা করতে হচ্ছে। বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হারের পর এক টেস্ট পরই দল বদলাতে বাধ্য হয়েছে তারা। একাদশে একটি পরিবর্তন নিয়ে হোয়াইটওয়াশ ঠেকানোর মিশনে স্বাগতিকরা। পরিসংখ্যান অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে, ঘরের মাঠে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ কখনো হারেনি তারা।

অন্যদিকে ক্রিকেটে জগতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দাপুটে জয়ে সবখান থেকে প্রশংসায় ভাসছে তারা, বিশেষ করে চারদিনের ভেতরে তাদের জেতার ধারণ হচ্ছে প্রশংসিত। দলের অধিনায়ক শান্তও বলেছেন, যে কোনো ফরম্যাটে এটি বাংলাদেশের সেরা জয়। কোচ ফিল সিমন্স তার ক্যারিয়ারের সেরা টেস্ট জয় বলে অভিহিত করেছেন ডারউইনের সাফল্যকে।

ওই জয় বাংলাদেশকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলেও ইতিবাচক ধাক্কা দিয়েছে। সুযোগ থাকছে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার। অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট ভেন্যু ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনায় জিতলে তিন নম্বরে ওঠার সুযোগ। কিন্তু সাফল্য পেতে ডারউইনের চেয়েও ভালো কিছু করে দেখাতে হবে শান্তদের।

বাংলাদেশের জন্য একটি সিরিজ জিতলে সেটি হবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের প্রথম এবং অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও প্রথম। তাতে ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ২০২৪ সালে পাকিস্তানের পর তৃতীয় দল হিসেবে অ্যাওয়ে সিরিজের দুটো টেস্টেই জেতার কৃতিত্ব গড়বে তারা।

ডারউইনে হারের ক্ষত সারাতে চাইবে অস্ট্রেলিয়া। একই সঙ্গে তারা প্রমাণ করতে চাইবে, সেই হার ছিল একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। বাংলাদেশের কোচ সিমন্স ম্যাকাইতে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি শুধু তাদের ব্যাপারে একটাই কথা বলব, অস্ট্রেলিয়া আরও কঠিন হয়ে সামনে দাঁড়াবে। তাই আমাদের পারফরম্যান্সের স্তর ধরে রাখতে হবে কিংবা আরও ভালো কিছু করতে হবে।’

ডারউইন টেস্টের একাদশ থেকে একটি পরিবর্তন আনতে পারে বাংলাদেশ। পেসার শরিফুল ইসলাম ইবাদত হোসেনের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন। তবে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ আছে। ডারউইনে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি মারেন তানজিদ। বৃহস্পতিবারের ট্রেনিং সেশনে ঘাড়ের সমস্যায় ব্যাট করেননি। ব্যাটিংয়ের সময় আঙুলে আঘাত পেলেও পরে ব্যাটিং করেছেন মুশফিক।

ম্যাকাইতে ডারউইনের চেয়ে কন্ডিশন একটু আলাদা। ম্যাকাই পিচ খুব সম্ভবত আরও বেশি পেস ও বাউন্স তৈরি করবে। তাতে করে অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলাররা আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেন। খোলামেলা প্রকৃতির কারণে খেলায় জোরালো বাতাসের প্রভাব থাকতে পারে, সেটাও বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য হবে আরেকটি চ্যালেঞ্জ।

এদিকে অস্ট্রেলিয়া তাদের একাদশে জেক ওয়েদারাল্ডের বদলে ম্যাথু রেনশকে ফিরিয়েছে। এই ভেন্যুতে তার দুটি প্রথম শ্রেণির সেঞ্চুরি। সুতরাং শুরুতেই তাকে ফেরাতে পারা হবে বাংলাদেশের জন্য প্রাথমিক সাফল্য।

ম্যাচটিতে অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য থাকবে জেতার এবং সিরিজ সমতায় ফিরিয়ে সম্মান কিছুটা ফিরে পাওয়ার। আর বাংলাদেশের জন্য সুযোগটি আরও বড়। ইতোমধ্যে ডারউইনে তারা ইতিহাস গড়েছে। এখন ম্যাকাইতে সেই ইতিহাস নতুন করে লিখতে চায় বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : পাকিস্তানকে তিন দিনেই ইনিংস ব্যবধানে হারাল ইংল্যান্ড

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন