ভারতের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর অঞ্চল পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামেও পরিচিত। ভারতীয় ভূখণ্ডের সঙ্গে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সংযোগপথ এই সরু করিডোর।
শুক্রবার (২০ আগস্ট) শিলিগুড়িতে এসে এই করিডোরের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা নিয়ে বড় বার্তা দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘শিলিগুড়ি করিডোর সুরক্ষিত রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা নয়, প্রশাসনিক পরিকাঠামো থেকে দিল্লির সঙ্গে দ্রুত রেল যোগাযোগসহ শিলিগুড়িকে ঘিরে একাধিক পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।’
শিলিগুড়ির রানিডাঙ্গায় সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রায় ১৮৯ কোটি টাকার একাধিক প্রশাসনিক ও আবাসিক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর ও উদ্বোধন করেন অমিত শাহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা।
বক্তব্যে অমিত শাহ বলেন, ‘শিলিগুড়ি করিডোর ও সমগ্র দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি বিশেষ ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ তৈরি করেছে। চোপড়া, কিষাণগঞ্জ ও ধুবড়ি এই তিন ঘাঁটি থেকে সমগ্র করিডোরে নজরদারি, সামরিক উপস্থিতি ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত ‘তিস্তা প্রহারের’ মতো সামরিক অনুশীলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে।’
তিনি জানান, শিলিগুড়ি করিডোরকে শক্তিশালী করতে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর প্রায় ৫৬০ একর জমির প্রয়োজন ছিল। সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার প্রয়োজন থাকলেও পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েও জমি পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
অমিত শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। রাজ্য সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ ও এসএসবির জমিসংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে ১১২৯ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ২৯ একর জমির অনুমোদনও দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি শিলিগুড়ি অঞ্চলের যোগাযোগ, পর্যটন ও অর্থনৈতিক বিকাশেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম ২.০’-এর আওতায় ৬৮৩৯ কোটি রুপির প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভুটান সীমান্তের গ্রামগুলোকে সড়কপথের পাশাপাশি মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের আওতায় শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি স্টেশনকে বিশ্বমানের স্টেশনে রূপান্তরের কাজ চলছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত দিল্লি-শিলিগুড়ি হাই-স্পিড রেল করিডোর চালু হলে আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে দিল্লি থেকে কয়েক ঘণ্টায় শিলিগুড়ি পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছে।
পড়ুন: স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা
আর/


