আর্থিক সংকটে এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যে জামালপুরে ১০০ জন এতিম শিক্ষার্থীকে মাসিক শিক্ষাবৃত্তি দিয়েছে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে মাসে ২ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ টাকার বৃত্তি দেওয়া হয়েছে।
শনিবার জামালপুরের কাজির আখ এলাকায় দোস্ত এইড কনফারেন্স সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি, পড়াশোনার অগ্রগতি ও শিক্ষাজীবনের সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও উন্নয়ন সংঘের মানব সম্পদ উন্নয়ন বিভাগের প্রধান জাহাঙ্গীর সেলিম। দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির হেড অব অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড অ্যাডমিন কহিনুর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রজেক্ট ম্যানেজার আবুল কায়েস।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দোস্ত এইডের অপারেশন ম্যানেজার জহুরুল ইসলাম, অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স ডেপুটি ম্যানেজার মাজহারুল ইসলাম, শিক্ষা বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার শওকত মিয়া, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ সাজ্জাদ হোসেনসহ সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। আর্থিক সংকটের কারণে কোনো শিশুর শিক্ষাজীবন যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি বলেন, দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি শুধু শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করছে না, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষা পরিচর্যার যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেটিও অত্যন্ত প্রশংসনীয়। একজন শিক্ষার্থীর হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া মানে শুধু অর্থ সহায়তা নয়; বরং তার স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
জাহাঙ্গীর সেলিম আরও বলেন, এসব শিক্ষার্থীই আগামী দিনের দেশ ও সমাজের সম্পদ। তাই এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও সক্ষম ব্যক্তিদের আরও বেশি এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে কহিনুর আলম চৌধুরী বলেন, শিক্ষাই একটি শিশুর জীবন পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম—এই বিশ্বাস থেকেই দোস্ত এইড নিয়মিত শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে সংস্থার কার্যক্রম শুধু বৃত্তি প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি এবং শিক্ষাগত অগ্রগতির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থন পাওয়া গেলে আরও বেশি এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীকে এ কার্যক্রমের আওতায় আনা সম্ভব হবে।


