নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাহারা খাতুন নামে বয়োজ্যেষ্ঠ এক নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই মেয়ের জামাই রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার চণ্ডিগড় ইউনিয়নের ফুলপুর নামাপাড়া গ্রামে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ঘাতক জামাইকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
নিহত শাশুড়ি সাহারা খাতুন উপজেলার চণ্ডিগড় ইউনিয়নের ফুলপুর নামাপাড়া গ্রামের মোতালেবের স্ত্রী। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ঘাতক জামাই রফিকুল ইসলাম একই উপজেলার পাটলী গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।
রফিকুল দীর্ঘদিন ধরে ফুলপুর নামাপাড়া গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে ‘ঘরজামাই’ হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করার সুবাদে বেশ কিছুদিন ধরে জমিজমা নিয়ে শাশুড়ি সাহারা খাতুনের সঙ্গে জামাই রফিকুল ইসলামের পারিবারিক বিরোধ ও কলহ চলে আসছিল। শনিবার সন্ধ্যায় বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে রফিকুল তার শাশুড়িকে আঘাত করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
হত্যার খবর মুহূর্তে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পালানোর আগেই এলাকাবাসী অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করে আটকে রাখে এবং দুর্গাপুর থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে তাদের হেফাজতে নেয়।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, “আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল অভিযুক্তকে আমরা আটক করতে সক্ষম হয়েছি এবং তাকে থানায় নিয়ে আসা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, “তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় দুর্গাপুর থানায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


