কুষ্টিয়ায় সরকারি মূল্যে কৃষক পর্যায়ে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিসিআইসি ও বিএডিসি সার ডিলারদের সাথে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষের এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান।
এ সভায় বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) ফয়সাল মাহমুদ, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপপরিচালক ড. মোঃ শওকত হোসেন ভূঁইয়া ও বিএডিসির বীজ ও সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন প্রমুখ।
চলতি আমন মৌসুমে জেলায় সারের সরবরাহে কোন ঘাটতি নেই জানিয়ে ডিলারদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা নিয়মনীতি মেনে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করছেন। কিন্তু কৃষকদের অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারনে সারের চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী টিএসপি ও ড্যাপ সারের যে বরাদ্ধ ডিলাররা পেয়েছেন সে অনুযায়ী সার নিচ্ছেন না কৃষকরা। তারা ড্যাপ সারের সাথে অতিরিক্ত টিএসপি সার চাচ্ছেন। সেটা না দিতে পারায় ডিলারদের বিরুদ্ধে সার না দেয়ার অভিযোগ কৃষকদের। এছাড়ার কৃষকরা আগামী পেঁয়াজ মৌসুমের জন্য টিএসপি সার মজুত করছেন বলে সভায় অভিযোগ করেন ডিলাররা। তারা বলেন, পেঁয়াজ মৌসুমে আমাদের বিঘা প্রতি টিএসপি সারের বরাদ্ধ ২৫কেজি, সেখানে কৃষকরা ব্যবহার করেন ১০০ কেজি। ডিলাররা সংকট মোকাবেলায় টিএসপি সারের অতিরিক্ত বরাদ্দের আবেদন জানান।
সভায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডিলারদের সরকারী নিয়ম নীতি মেনে প্রকৃত কৃষকদের নিকট সার বিক্রির নির্দেশ দেয়া হয়। একই সাথে বিক্রি বইয়ে সঠিক ভাবে কৃষকদের নাম ও মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়। একই সাথে কৃষকদের সঠিক মাত্রায় সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে উপজেলা কৃষি অফিসারদের মাইকিং করার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।
এসময় বিএডিসি কুষ্টিয়ার যুগ্মপরিচালক (সার) কৃষিবিদ মোঃ ওসমান গণী, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার রুপালী খাতুন, কুমারখালী উপজেলা কৃষি অফিসার মনির হোসেন, ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদা সুলতানা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সহ জেলার ৫০জন বিসিআইসি ও বিএডিসি সার ডিলার উপস্থিত ছিলেন। এই বাইরে উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা অনলাইনে সভায় যোগ দেন।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যৌথ ভাবে এই মতবিনিয় সভার আয়োজন করে।
পড়ুন : দেশে ৯৫ কারখানা বন্ধ, কর্মসংস্থান হারিয়েছে ৬২ হাজার: সিপিডি
সা/


