বিজ্ঞাপন

সঠিক পরিচর্যা ও সুযোগ পেলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুরাও হবে দেশের সম্পদ: ডিসি ফরিদা

সঠিক পরিচর্যা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও উপযুক্ত সুযোগ পেলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুরাও দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ) রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রতিবন্ধী শিশু উন্নয়ন সংগঠন ‘মায়ার বাঁধন’-এর ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী শিশুদের মাঝে খাবার ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ফরিদা খানম বলেন, প্রতিবন্ধকতা কখনোই মানুষের মেধা, প্রতিভা ও সম্ভাবনার সীমা নির্ধারণ করতে পারে না। এর উজ্জ্বল উদাহরণ বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। গুরুতর শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও তিনি মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে অসাধারণ অবদান রেখেছেন। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়, শারীরিক সীমাবদ্ধতা মানুষের মেধা ও স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে পারে না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই শিশুদের মধ্যেও অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা যদি তাদের সীমাবদ্ধতার পরিবর্তে সক্ষমতা ও প্রতিভাকে গুরুত্ব দিই এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করি, তাহলে তারাও একদিন পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য গর্বের কারণ হয়ে উঠবে।’

জেলা প্রশাসক বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি করুণা নয়, প্রয়োজন সম্মান, ভালোবাসা ও সুযোগ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগে তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একটি শিশুর প্রতিবন্ধকতা তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না; বরং সঠিক পরিচর্যা ও সুযোগই তার সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

‘মায়ার বাঁধন’-এর এক দশকের কার্যক্রমের প্রশংসা করে ফরিদা খানম বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মমতা ও যত্নে আগলে রেখে সংগঠনটি যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা প্রশংসনীয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব শিশুর পাশে থেকে সংগঠনটি শুধু সেবা নয়, তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার কাজও করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অনেক অভিভাবকের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা থাকে—তারা না থাকলে সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে। সেই উদ্বেগ দূর করতে ‘মায়ার বাঁধন’-এর স্থায়ী ও নিরাপদ আবাসন গড়ে তোলার উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামর্থ্যবান মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

এ সময় জেলা প্রশাসক, অটিস্টিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের কল্যাণে আর্থিক অনুদান প্রদান এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে ‘মায়ার বাঁধন’-এর সভাপতি মোসাঃ ফওজিয়া ইয়াসমীন সভাপতিত্ব করেন। এতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, অভিভাবক, সংগঠনের সদস্য ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে ৯৬ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১৬ জন এতিম এবং ১১ জনের শুধু মা রয়েছেন। শিশুদের মাঝে খাবার ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

‘মায়ার বাঁধন’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি একটি অরাজনৈতিক প্রতিবন্ধী শিশু উন্নয়ন সংগঠন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য স্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে গত এক দশক ধরে বিভিন্ন মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং তাদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ‘মায়ার বাঁধন’-এর স্থায়ী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

পড়ুন : ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে সারাদেশে র‍্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন