চট্টগ্রামে ঋণ পরিশোধের পর নিষ্পত্তি হওয়া মামলাকে কেন্দ্র করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, প্রশ্নবিদ্ধ নিলাম এবং সশস্ত্র হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন এক প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা।
মঙ্গলবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা দাবি করেন, ১৯৬১ সাল থেকে তারা নগরীর চকবাজার থানাধীন বাদুরতলা হারেস শাহ মাজার সংলগ্ন প্রায় ১১ গণ্ডা সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন। বিএস ৩১৩ নম্বর খতিয়ানে তাদের নামে রেকর্ড, নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত নকশাসহ পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৯২ সালে চাক্তাই খাল সম্প্রসারণের সময় সিডিএ ওই সম্পত্তির কিছু অংশ অধিগ্রহণ করে। তখন আব্দুল মাবুদ ওই জমিতে স্বত্ব দাবি করলেও জেলা প্রশাসনের তদন্তে তার দাবি গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে তারা জানান।
পরিবারটির অভিযোগ, পরবর্তীতে আব্দুল মাবুদ অগ্রণী ব্যাংকের চকবাজার শাখা থেকে ঋণ নিয়ে তাদের সম্পত্তি তৃতীয় পক্ষের গ্যারান্টার হিসেবে বন্ধক রাখেন। এ নিয়ে দেওয়ানি আদালতে মামলা হলে তাদের পক্ষে রায় এবং চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
তাদের দাবি, ২০১২ সালে ব্যাংকের পাওনা ৫ লাখ ৪১ হাজার ১৬১ টাকা পরিশোধের পর অর্থঋণ আদালতের মামলা নিষ্পত্তি হয়। কিন্তু দীর্ঘ ১৩ বছর পর ২০২৫ সালে ওই সম্পত্তি নিয়ে নিলাম কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তাদের অভিযোগ, ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি মাত্র ২০ লাখ টাকায় নিলাম দেখানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গত রোববার ৩০০ থেকে ৪০০ জন লোক নিয়ে সম্পত্তিতে প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।এতে নেতৃত্ব দেয় সিএমপির বিভিন্ন থানায় প্রশাসনের তালিকায় মোস্ট ওয়ান্টেড মাদক মামলার আসামী ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীরা এসময় বিভিন্ন ঘরের দরজা ও আলমারি ভেঙে প্রায় ২০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং ১০ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ লুট করেছে বলে দাবি করা হয়।এসময় নারী, শিশু,বৃদ্ধ ও নিরাপত্তাকর্মীকে মারধরের অভিযোগও করা হয়।
পরিবারটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত,হামলা ও লুটপাটে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা,আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন এবং তাদের পৈতৃক সম্পত্তি ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
পড়ুন : হরমুজ প্রণালীতে অস্থায়ী নৌপথ চালুর প্রস্তাব ইরান-ওমানের
সা/


