বিজ্ঞাপন

কর্ণফুলীতে নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ


চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে সাউথ চট্টগ্রাম হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক লিমিটেডে চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরিবারের ১ লাখ টাকায় সমঝোতা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

স্বজনদের অভিযোগ, নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পরও সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়নি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, পরিবারের সম্মতিতেই চিকিৎসা ব্যয় ও অন্যান্য বিষয়সহ ১ লাখ টাকায় ঘটনাটি সমাধান করা হয়েছে।

এদিকে, অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কর্ণফুলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেসা।

নবজাতকের বাবা মো. নাঈম উদ্দীন জানান, গতকাল দুপুর ১টার দিকে চিকিৎসক ডা. ফারজানা আক্তার বিউটির মাধ্যমে তার স্ত্রীকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি,রাত ১টা ২৫ মিনিটের দিকে স্বাভাবিকভাবে নবজাতকের জন্ম হয়। জন্মের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
তবে কিছুক্ষণ পর নবজাতকটি অতিরিক্ত কান্নাকাটি শুরু করলে তাকে বেড থেকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী তখন চিকিৎসক জানান, জন্মের সময় শিশুটির কিছুটা ইনফেকশন হয়েছিল। এরপর তাকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, ইনজেকশন দেওয়ার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। তবে স্যালাইন শেষ পর্যন্ত দেওয়া সম্ভব হয়নি।

নবজাতকের বাবা অভিযোগ করেন, শিশুটির অবস্থার অবনতি দেখে তিনি বারবার চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মীদের বিষয়টি জানান। কিন্তু তার অভিযোগ, সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি শিশুটির কান্নার বিষয়টি চিকিৎসককে জানালে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন বলেও অভিযোগ করেন নাঈম উদ্দীন।
পরিবারের দাবি, সারা রাত শিশুটির যথাযথ পরিচর্যার জন্য কোনো সেবিকা নিয়মিত আসেননি। শিশুর বাবা বারবার নার্স ও চিকিৎসকদের ডাকলেও তারা বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ তার।

একপর্যায়ে ২৭ আগস্ট ভোর ৬টা ১০ মিনিটের দিকে নবজাতকটির মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন নবজাতকের বাবা। পরে কর্ণফুলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে, নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীরা চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনকে অবহিত করলে তিনি দ্রুত কর্ণফুলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেসাকে ঘটনাস্থলে পাঠান।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ডা.জেবুন্নেসা গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, নবজাতকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের ভুল কিংবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী হাসপাতালের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, সাউথ চট্টগ্রাম হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক লিমিটেডকে ঘিরে অতীতেও চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছিল।এর আগে ২০২৩ সালেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে সি প্লাস টিভিতে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছিল।সে সময়ও নিহত নবজাতকের পরিবারের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার অভিযোগ উঠেছিল বলে জানা গেছে। তিন বছর না যেতেই একই প্রতিষ্ঠানে আবারও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ১ লাখ টাকায় সমঝোতার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে নবজাতকের বাবা মো. নাঈম উদ্দীন জানান,পরিবারের স্বজনদের মাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমঝোতা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সাউথ চট্টগ্রাম হাসপাতালের ম্যানেজার মো.নজরুল ইসলাম জানান,ঘটনার সময় তিনি হাসপাতালে ডিউটিতে ছিলেন না। পরে হাসপাতালে কর্মরতদের সঙ্গে কথা বলে এবং নিহত নবজাতকের স্বজনদের অভিযোগ শুনে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। এরপর নিহত নবজাতকের স্বজনদের সম্মতিতে চিকিৎসা ব্যয়সহ ১ লাখ টাকায় বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর মোহাম্মদ বলেন, নবজাতকের স্বজনরা ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্বজনরা যদি টাকা নিয়ে বিষয়টি সমঝোতা করে থাকেন,তাহলে পুলিশের তাৎক্ষণিকভাবে করার কিছু থাকে না।তবে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা,ভুল চিকিৎসা কিংবা আর্থিক সমঝোতার অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পড়ুন: গ্যাস-বিদ্যুৎ ঘিরে হাহাকার, লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগ

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন