রঙ-তুলির আঁচড়ে ক্যানভাসে ফুটে উঠল দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন। শিশু-কিশোরদের আঁকা ছবিতে উঠে এসেছে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রকৃতি, সম্প্রীতি ও স্বাধীনতার গৌরবময় নানা অনুষঙ্গ। নতুন প্রজন্মের মধ্যে এসব মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘সম্প্রীতি ও স্বাধীনতা’ শীর্ষক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় তিন ক্যাটাগরিতে সেরা ১২ জনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
রাজধানীর ধানমণ্ডিস্থ নজরুল ইনস্টিটিউটে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে স্বাধীনতা সাংস্কৃতিক পরিষদ ও স্বাধীনতা চারুশিল্পী পরিষদ। সকাল থেকেই শিশু-কিশোরদের উৎসবমুখর অংশগ্রহণে মুখর ছিল নজরুল ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ। রঙের সঙ্গে স্বপ্ন ও কল্পনার মেলবন্ধনে শিশুদের ক্যানভাসে ফুটে ওঠে বাংলাদেশের নানা রূপ।
প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী অধ্যাপক জামাল আহমেদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ক্ষুদে শিল্পীদের দেশ ও মানুষকে ভালোবেসে ছবি আঁকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুন্দর জীবন গড়তে হলে দেশের ইতিহাস ধারণ করতে হবে। সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা নিয়ে নিজেদের তৈরি করতে হবে।
তিনটি ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। শিশু শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ‘আমাদের নদী’ বিষয়ে ছবি আঁকে। চতুর্থ থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয় ছিল ‘স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি’। আর অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘চেতনায় বাংলাদেশ’ বিষয়ে ছবি আঁকে।
তিন ক্যাটাগরিতে মোট ১২ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সব শিশু-কিশোরের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
পদ্মা বিভাগে প্রথম হয়েছে ওয়াজিহা হাসান আরিবাহ (লিটল এঞ্জেলস স্কুল), দ্বিতীয় ইয়াস রহমান (এঞ্জেল একাডেমি) ও তৃতীয় মেহরিমা নওমী (শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ) এবং চতুর্থ সম্প্রীতা রায় (লিটল এঞ্জেলস স্কুল)।
মেঘনা বিভাগে প্রথম হয়েছে কামরুন নাহার (সিলভার ডেল প্রিপারেটরি স্কুল), দ্বিতীয় নাজিয়া মেহজাবীন (বীরশ্রেষ্ঠ নূর মো. পাবলিক স্কুল), তৃতীয় তাসফিয়া মহিব সামিরা (ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ) এবং চতুর্থ প্রকৃতি চৌধুরী (অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল)।
যমুনা বিভাগে প্রথম হয়েছে তাজকবা ফেরদৌস জল (অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল), দ্বিতীয় মিফতাহুল ইসলাম (বীরশ্রেষ্ঠ নূর মো পাবলিক স্কুল), তৃতীয় শেখ নাজ্জাশীজামান লেনিন (মাস্টার মাইন্ড স্কুল ও কলেজ) এবং আরাফাত ইসলাম (শেরে বাংলা নগর সরকারি বালক স্কুল)।
আয়োজকরা জানান, শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ পৌঁছে দেওয়াই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তাঁদের বিশ্বাস, শিল্পচর্চার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হবে।
পড়ুন : প্রেমভিত্তিক নাটক ও সিনেমা নির্মাণ বন্ধে লিগ্যাল নোটিশ


