সড়কের দুই পাশে সবজির পসরা, ফুটপাতজুড়ে হকারদের ভিড়। এর সঙ্গে যত্রতত্র মোটরসাইকেল পার্কিং। ব্যস্ত সময়ে সবকিছু মিলে সড়কবাজারে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। পথচারীদের হাঁটার জায়গা থাকে না, যানবাহন চলে ধীরগতিতে। কখনো কখনো এই যানজট পেরিয়ে সময়মতো আখাউড়া রেলওয়ে জংশনে পৌঁছাতে পারেন না ট্রেনযাত্রীরা।
দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি কমাতে এবার উদ্যোগ নিয়েছে আখাউড়া পৌর কর্তৃপক্ষ। পৌরসভা সংলগ্ন একটি জায়গায় সবজি বিক্রেতা ও হকারদের জন্য ৯৮টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। একই জায়গায় মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পথচারী ও ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে একটি শৌচাগার।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সড়কবাজারের যানজট নতুন কোনো সমস্যা নয়। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ও ফুটপাতের ওপর বসে ব্যবসা করায় একদিকে যেমন যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে পথচারীদেরও ঝুঁকি নিয়ে সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রেনের সময় যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে।
সড়কবাজারের সবজি বিক্রেতা সমিতির সভাপতি শাহ আলম বলেন, এত দিন তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা ছিল না। ফলে বাধ্য হয়েই ফুটপাতে বসে সবজি ও ফল বিক্রি করতে হয়েছে।
শাহ আলম বলেন, ‘এতে ক্রেতা-বিক্রেতা, পথচারী—সবারই দুর্ভোগ হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই সমস্যার মধ্যে আছি। এখন একটি নির্ধারিত স্থান করে দেওয়ায় আমরা খুশি। ইউএনও ও পৌর প্রশাসক সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখেন। আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।’
আখাউড়া পৌর যুবদলের সদস্যসচিব হুমায়ুন রহমান নয়ন বলেন, যানজট পৌরশহরের দীর্ঘদিনের সমস্যা। আগে বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। যানজটের কারণে মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি প্রতিদিন অনেক কর্মঘণ্টাও নষ্ট হয়।
তিনি বলেন, ‘হকার ও সবজি বিক্রেতাদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা করা হয়েছে। মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আশা করছি, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সড়কবাজারের যানজট অনেকটাই কমে আসবে।’
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক তাপসী রাবেয়া বলেন, শহরের যানজট নিরসন করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা করার কারণে যানজটের পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।
তাপসী রাবেয়া বলেন, ‘আগামী মাসের শুরুতেই সব হকার ও ভ্রাম্যমাণ সবজি বিক্রেতাকে নির্ধারিত স্থানে পুনর্বাসন করা যাবে বলে আশা করছি। তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান, মোটরসাইকেল পার্কিং ও শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত স্থানে যাওয়ার পরও কেউ ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
পৌর কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগে সড়কবাজারের চেনা দৃশ্য কতটা বদলায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, নিয়মিত তদারকি ও সবার সহযোগিতায় সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত থাকবে। আর যানজটের দীর্ঘ ভোগান্তি পেরিয়ে সড়কবাজারে ফিরবে স্বস্তির চলাচল।
পড়ুন:বাংলাদেশকে উন্নত করতে হলে শিক্ষাখাতকে এগিয়ে নিতে হবে: নজরুল ইসলাম আজাদ
ইমি/


