বাংলাদেশ এইচপির বিপক্ষে শেষ ওভারে জয়ের জন্য ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট একাডেমির প্রয়োজন ছিল মাত্র ১ রান। অন্যদিকে, বাংলাদেশের দরকার ছিল মাত্র ২ উইকেট। এর মধ্যে প্রথম বলেই রানআউট, পরের দুই বলে ডট; ম্যাচ তখন সুপার ওভারের দিকে এগোচ্ছে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নাটকীয় সমাপ্তিতে বাংলাদেশ এইচপিকে ১ উইকেটে হারিয়ে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনালে উঠে গেল ভিক্টোরিয়া।
ডারউইনে রোববার (৩০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশ এইচপি আগে ব্যাট করে মাত্র ১০১ রানে অলআউট হয়। জবাবে ১৯.৪ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১০৫ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট একাডেমি।
১০২ রানের লক্ষ্য পাড়ি দিতে নেমে ভিক্টোরিয়াও শুরুতে ধাক্কা খায়। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই হ্যারি ডিক্সনকে বোল্ড করেন মো. রুবেল। তবে টম রজার্স ও ক্যাম্পবেল কেলাওয়ে মিলে দলকে সামলে নেন। রজার্স ১৮ বলে ১৮ রান করে শামীম হোসেনের বলে ফেরেন। কেলাওয়ে করেন ২৮ বলে ২৩ রান। এরপর ব্লেক ম্যাকডোনাল্ড ১৬ বলে ১৫ এবং অধিনায়ক উইল সাদারল্যান্ড ৯ বলে ১৬ রান করে ভিক্টোরিয়াকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন।
তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ম্যাচ আবারও বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ৮১ রানে পঞ্চম উইকেট হারানোর পর মাত্র ১৮ রানের ব্যবধানে আরও চারটি উইকেট হারায় ভিক্টোরিয়া। ৯৯ রানে অষ্টম উইকেট এবং ১০১ রানে নবম উইকেট পড়লে ম্যাচের উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়।
শেষ পর্যন্ত লিয়াম ব্ল্যাকফোর্ড ২৬ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। তার সঙ্গে অপরাজিত ছিলেন কলাম স্টো, ০ রানে।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন মো. রুবেল। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে তিনি নিয়েছেন ৩ উইকেট। রিপন মণ্ডল ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। শামীম হোসেন ৩.৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন। রাকিবুল হাসান নেন ১ উইকেট।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ এইচপি শুরুতেই হ্যাবিবুর রহমান সোহানকে হারায়। তবে জিশান আলম ও আরিফুল ইসলাম দ্রুত রান তুলে দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান। জিশান ২০ বলে ৩০ রান করেন, তার ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ১টি ছক্কা। আরিফুল ছিলেন আরও আগ্রাসী; মাত্র ১০ বলে ১৯ রান করেন ৩টি চার ও ১টি ছক্কায়।
কিন্তু আরিফুল ফেরার পর বাংলাদেশের ইনিংসে ধস নামে। শামীম হোসেন ৭ বলে ৮, সাব্বির রহমান ৮ বলে ৫ এবং রাকিবুল হাসান ৩ বলে কোনো রান না করেই আউট হন। শেষ দিকে আবু হায়দার ১৮ বলে ১২ এবং আবদুল গাফফার সাকলাইন ১৬ বলে ১০ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ১৭.১ ওভারে মাত্র ১০১ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
পড়ুন : মেসির চার গোলের জাদুতে প্রতিপক্ষকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করল ইন্টার মায়ামি
সা/


